Last Updated:
Delhi Fire Tragedy: ফায়ার এনওসি ছিল না, চলত অনুমতির বাইরে ২৫টি ঘর! দিল্লি ট্র্যাজেডিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য তদন্তে। গ্রেফতার হোটেলের রাঁধুনি।
নয়াদিল্লি: দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল দিল্লি পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, রাঁধুনির গাফিলতির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই হোটেলের রাঁধুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে যে রাঁধুনির অসাবধানতার কারণেই আগুন লাগে। ঘটনায় আরও কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্য একজনকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত বুধবারের ওই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ১৩ জনই বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে নাইজেরিয়ার চার জন, কিরগিজস্তানের তিন জন এবং মোজাম্বিক, লাইবেরিয়া, উজবেকিস্তান, বাংলাদেশ ও ইরাকের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সম্ভাব্য গাফিলতি খতিয়ে দেখতে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ‘ফ্লারিশ স্টে’ বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক লাভকেশ বাজাজ জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ, ভবনটির কোনও ফায়ার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) ছিল না। যদিও তিনি দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন পরিচালনার সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তদন্তকারীদের মতে, এই স্বীকারোক্তি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে। দক্ষিণ দিল্লির হাউজ রানি এলাকায় অবস্থিত ওই সম্পত্তিতেই আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।
নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের দিকেই নজর তদন্তকারীদের
তদন্তে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, অনুমোদনহীন নির্মাণ এবং সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্রের অভাব এই বিপর্যয়ের মাত্রা বাড়িয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, হোটেলটি প্রয়োজনীয় ফায়ার এনওসি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এছাড়াও অনুমোদিত ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি পরিসরে প্রতিষ্ঠানটি চালানো হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, দিল্লি সরকারের বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট নীতির অধীনে ওই সম্পত্তিতে মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি ছিল। কিন্তু সেখানে প্রায় ২৫টি কক্ষ চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ, যার মধ্যে কিছু বেসমেন্টেও ছিল। তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে ভবনটিতে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হয়েছিল। এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।
Kolkata,West Bengal
