কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট। গত ৩ মাস ধরে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালী। এর ফলে গোটা বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে LNG বা লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাসের বাজারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আবহাওয়াও।
আরও পড়ুন: জ্বালানির নতুন যুগের সূচনা, দেশজুড়ে ৪৮ পাম্পে মিলবে নতুন E85 পেট্রোল
আবহাওয়াবিদরা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন চলতি বছরে ভারত সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে খর গ্রীষ্ম দেখা যেতে পারে। এমনকি তাঁরা বলছেন, জুন থেকে অগস্টের মধ্যে, অর্থাৎ একেবারে বর্ষাকালে এল নিনোর মতো আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে, গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে। সমানুপাতে বৃদ্ধি পাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহারও। আর এতে বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদা।
এমন হলে যখন চিন সহ অন্যান্য এশিয়ান দেশগুলো যখন সমস্যায় পড়বে, তখন কিছুটা নিশ্চিন্তে থাকবে ভারত। কারণ, চিন সহ অন্যান্য এশিয়ান দেশগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য LNG বা লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাসের উপর নির্ভর করে। আর তাদের বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে বাড়ে গ্যাসের খরচও। ফলে বাড়বে গ্যাসের দাম। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টা খানিকটা আলাদা। কারণ, ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৪ শতাংশেরও কম LNG বা লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাসের উপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: ভারতের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি Wagon R, ইথানল ব্যবহার বাড়াতে বড় পদক্ষেপ মারুতি সুজুকির
উল্লেখ্য, ভারতে মোট ৫২০ গিগা ওয়াটের বেশি বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যদিও এর পরও ভারতের প্রায় ০.০৩ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকে যায়, বলছে পিআইবির তথ্য। ভারতের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৬৯ থেকে ৭২ শতাংশই উৎপাদিত হয় কয়লা থেকে। যদিও ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামোর ৪২ থেকে ৪৭ শতাংশ হল তাপবিদ্যুতের।
এর পর আসে ভারতের অচিরাচরিত শক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ। দেশের প্রয়োজনের প্রায় ২৮ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে এই সেক্টর থেকে। যদিও এই সেক্টর ভারতের মোট উৎপাদন ক্ষমতার ৫২ শতাংশ বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে ২৮.৭ শতাংশ সৌর বিদ্যুৎ, ১০.৫ শতাংশ বায়ু শক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ, ৯.৬ শতাংশ বিদ্যুৎ হল জল বিদ্যুৎ ও পারমাণবিক শক্তি থেকে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হল ১.৬ শতাংশ।
আর ভারতের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২ থেকে ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ তৈরি হয় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। যদিও ভারতের মোট ক্ষমতার ৩.৮ শতাংশ বিদ্যুৎ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি করা যায়।
যদিও LNG-এর কারণে সব থেকে সমস্যায় পড়বে চিন। কারণ, গ্রীষ্মে চিনের মতো বড় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। ফলে, চিনকে আরও অনেক বেশি LNG আমদানি করতে হবে। এ ছাড়াও গত বছরের থেকে ইতিমধ্যেই LNG সরবরাহ কমে গিয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। ফলে, চিনে চাহিদা বাড়লে আরও দাম বাড়তে পারে প্রাকৃতিক গ্যাসের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আগামী আগস্টের মধ্যে LNG-র দাম আরও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।