Last Updated:
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ভারতে মানুষ্যসৃষ্ট কারণে ১,৬৫৩টি হাতি মারা গিয়েছে। এর প্রধান কারণ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং ট্রেনের ধাক্কা। বাসস্থান ধ্বংস এবং সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা আরও শক্তিশালী সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
নয়াদিল্লি: সমীক্ষা অনুসারে, গত ১৬ বছরে ভারতে অন্তত ১,৬৫৩টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। কেরল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানিয়েছেন ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশজুড়ে হাতির মৃত্যু প্রাকৃতিক কারণের চেয়ে মানুষসৃষ্ট কারণের জন্য বেশি।
সমীক্ষা অনুসারে, হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া। যার ফলে শত শত হাতির মৃত্যু হয়েছে। অবৈধ বৈদ্যুতিক বেড়া, নীচুতে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার বা ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোও এর পিছনে দায়ী। বনভূমি ও হাতির চলার পথের মাঝখান দিয়ে যাওয়া রেললাইন পার হওয়ার সময় হাতিরা প্রায়শই ট্রেনের ধাক্কায় মারা যেত। গবেষকরা আরও চিহ্নিত করেছেন, চোরা শিকার, বিষপ্রয়োগ হাতির মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণ। মহাসড়ক, রেলপথ, বসতি এবং কৃষি সম্প্রসারণের কারণে বনভূমি খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় হাতিরা খাদ্য ও জলের সন্ধানে ক্রমশ মানব-অধ্যুষিত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি রাজ্য বিশেষ করে কেরালা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের মতো অঞ্চলে মানুষ-হাতির সংঘাত তীব্রতর হয়েছে।
বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ বন্য এশীয় হাতির আবাসস্থল হল ভারত। হাতিকে কীস্টোন প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারা বীজ ছড়িয়ে, ঘন গাছপালার মধ্যে দিয়ে পথ তৈরি করে এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। মৃত্যু কমাতে বন বিভাগ, রেল কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয়ের আহ্বানও জানিয়েছে এই সমীক্ষা। মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
