Last Updated:
Sukhendu Sekhar Roy: দিল্লি গিয়েও দল রক্ষায় কার্যত ব্যর্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু রাজ্যসভার সাংসদ পদ নয়, দল ছাড়লেন প্রবীণ রাজীনীতিবিদ। স্পষ্ট করলেন কারণ। কোন ‘সময়’ তৃণমূলের আজকের এই দুর্দশার বীজ বপন? বিস্ফোরক বার্তায় অতীত খুঁড়ে বলে দিলেন সুখেন্দুশেখর।
নয়াদিল্লি: বাংলার আঁচে দিল্লি সরগরম। একদিকে দল বাঁচাতে মরিয়া মমতা অভিষেকের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে উপস্থিতি, অন্য দিকে মমতার নাকের ডগায় বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের বৈঠক সেই রাজধানী দিল্লিতেই। ১১, ১২, ১৩, ক্রমশ ভিড় বাড়ছে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের বৈঠকে। অন্যদিকে জল্পনায় ইতি টেনে উপ রাষ্ট্রপতির বাসভবনে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র দিয়ে দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। একইসঙ্গে ছাড়লেন দলও।
ইস্তফা বার্তায় কী লিখলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা? শুধু রাজ্যসভার সাংসদ পদ নয়, তাঁর বার্তায় দল ছাড়ার কথা স্পষ্ট করে সুখেন্দুশেখর লেখেন, “আমি তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এই দলে বেশিদিন টিকবে না। সময় সুযোগের অপেক্ষা করছিলাম। সবাই করে। আমি জানতাম এটা ঘটবে। ২০২৪ সালের মে মাসে আমাদের দল ২৯টা আসন পেল ৪২টার মধ্যে, তার চার মাসের মধ্যে এত মানুষ রাস্তায় নামলেন সেটা দেখে বুঝলেন না? আমি দল থেকেও পদত্যাগ করেছি। মেইল করে এবং হোয়াটসঅ্যাপ করে দলনেত্রীকে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। আমি নীতিগত কারণেই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিধানসভায় যা ঘটেছে তা লোকসভা এবং রাজ্যসভায় ঘটবে না তা হয় নাকি? আমি রাজনীতি করব কী করব না সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
প্রসঙ্গত, এদিন সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “রাজ্যের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সম্মানিত রাজনীতিবিদ দলীয় পদ ও সাংসদ পদ ছাড়লেন। ইচ্ছার ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সেই ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ আজ গুরুত্বপূর্ণ। সুখেন্দুদার কথায় আমরা সহমত। গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার আছে। ইচ্ছার ঐক্য আজ দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে।”
“আমার সঙ্গে লোকসভার সাংসদদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা আমাদের সঙ্গে সহমত। সংসদীয় দল একসঙ্গে বসেছেন। আমি লাস্ট বেঞ্চে বসতাম। আরটিআই নেতা সাামনে বসতেন। রাজনৈতিক আঙিনায় দূর্ভাগ্যজনক। যেখানে ভাঁড়ামোর জায়গা নেই। সংসদের ফ্লোরে ভাঁড়ামো গেলে এমন হয়। সুখেন্দুদা যা বাস্তব, তা বলেছেন। ক্যুইজ মাস্টারের ভাঁড়ামো সংসদে চলে না। এই সংখ্যা আরও বাড়বে। ইচ্ছা সংক্রামিত হচ্ছে। কলকাতা-দিল্লির দূরত্ব দেখুন।” একইসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “আজ ধৈর্য ধরে দেখুন এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা বাদে কী হবে। প্রলয় বন্ধ হয় না। শিক্ষা নেবেন কিনা সেটাই দেখার।”
Kolkata,West Bengal
