আমেরিকার বায়ুসেনা পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটি রাডার আধুনিকীকরণ প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত এক টেস্ট মিশনে ছিল। দুর্ঘটনায় যারা মারা গিয়েছেন, তাদের মধ্যে সামরিক অফিসার, সরকারি কর্মচারী আর সরকারি কন্ট্রাক্টর ছিলেন। অফিসাররা মৃতদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। এই দুর্ঘটনা নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কারণ বি-৫২ আমেরিকার বায়ুসেনার সবচেয়ে সম্মানজনক আর দীর্ঘদিন ধরে সার্ভিসে থাকা বিমানগুলির মধ্যে একটি।
B-52-র উন্নয়ন ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে ‘কোল্ড ওয়ার’ (Cold War) চলাকালীন হয়েছিল। তখন আমেরিকা আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের দৌড় চরমে ছিল। আমেরিকার এমন একটা বিমানের দরকার ছিল, যেটা হাজার হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত উড়ে গিয়ে পারমাণবিক বোমা পৌঁছে দিতে পারবে আর শত্রুর এলাকায় ঢুকে আক্রমণ করতে পারবে। এই লক্ষ্য নিয়ে আমেরিকান কোম্পানি বোয়িং B-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস তৈরি করেছিল। এই বিমান প্রথমবার ১৯৫২ সালে উড়েছিল আর ১৯৫৫ সালে আমেরিকান বায়ুসেনায় যুক্ত হয়েছিল।
B-52-এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্বগুলো:
এটা প্রায় ৩১,৭০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত বোমা আর মিসাইল নিয়ে যেতে পারে।
এটা অনেক দূর পর্যন্ত না থেমে উড়তে পারে।
এটা সাধারণ আর পারমাণবিক দুই ধরনের অস্ত্রই নিয়ে যেতে পারে।
আকাশে জ্বালানি ভরার পরে প্রায় বিশ্বের যেকোনও জায়গায় পৌঁছাতে পারে।
এটা ক্রুজ মিসাইল আর পারমাণবিক অস্ত্র লঞ্চ করতে পারে।
এখনকার B-52H ভার্সন আজও আমেরিকান পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কোন কোন যুদ্ধগুলোতে B-52-এর ব্যবহার হয়েছে?
ভিয়েতনাম যুদ্ধ: ১৯৬০ আর ১৯৭০-এর দশকে বি-৫২ ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে বোমাবর্ষণ করেছিল। ‘অপারেশন লাইনব্যাকার’-এর মতো অভিযানে এর ব্যাপক ব্যবহার হয়েছিল। আমেরিকার একটা B-52 ক্র্যাশও হয়েছিল আর একটা একটি লেকের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। এই কারণেই ভিয়েতনামে আজও B-52 লেক আছে, যেখানে তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।
১৯৯১-এর উপসাগরীয় যুদ্ধ: ইরাকের বিরুদ্ধে অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম-এ B-৫২ দূর থেকে ভারী বোমাবর্ষণ করে আমেরিকান সেনাবাহিনীকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।
আফগানিস্তান যুদ্ধ: ২০০১-এ ৯/১১ হামলার পর আফগানিস্তানে তালিবান আর আল-কায়েদার ঘাঁটিতে হামলার জন্য এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল।
ইরাক যুদ্ধ: ২০০৩-এ ইরাকে আমেরিকান হামলার সময়ও B-52 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
ISIS-এর বিরুদ্ধে হামলা: সিরিয়া আর ইরাকে ISIS-এর ঘাঁটিতেও B-52 দিয়ে হামলা করা হয়েছিল।
ইরান যুদ্ধ: সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের সময়ও B-52H বোমারু বিমানগুলোকে মিশনে পাঠানো হয়েছিল।