Last Updated:
ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে হওয়া সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের আটকে হয়ে থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ চারটি ধাপে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। কী কী জানা গেল চুক্তি সম্পর্কে?
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের বাজেয়াপ্ত হয়ে থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ চারটি ধাপে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে তৈরি হওয়া এই কাঠামো সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
ইসরায়েলের সংবাদপত্র Haaretz এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক পাকিস্তানি সূত্র এবং যোগাযোগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত আরেকটি সূত্রের দাবি, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শর্ত পূরণ করলেই এই অর্থ ছাড় করা হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং কোনও টোল বা ফি না নেওয়া, পাশাপাশি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আসন্ন আলোচনায় অগ্রগতি দেখানো।
জব্দ সম্পদ ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব
এখনও পর্যন্ত এই চুক্তি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে খুব কম তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া ১৪ দফা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি প্রকাশ করেছে বলে দাবি করেছে।
ইরানের Mehr News Agency-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ দিনের আলোচনাকালীন ধাপে ধাপে ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তি দেওয়া হবে। এমনকি আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই এই অর্থের অর্ধেক ছাড় করা হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট রফতানির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার কথাও এই কাঠামোয় রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী Kazem Gharibabadi জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং ইরানের জব্দ অর্থ মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ওয়াশিংটন পূরণ করার পরেই পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শুরু হবে।
হরমুজ প্রণালী ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জট
প্রস্তাবিত এই সমঝোতার লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার পথ তৈরি করা। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।
সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই জলপথ ‘টোলমুক্ত’ ভাবে খুলে দেওয়া হবে। যদিও ইরানি কর্মকর্তাদের একাংশ ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতের কোনও ব্যবস্থায় কিছু সামুদ্রিক পরিষেবা ফি বহাল থাকতে পারে।
এছাড়া ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়েও মতপার্থক্য বজায় রয়েছে। সমৃদ্ধকরণের সীমা, বিদ্যমান মজুত এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য মতবিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে উভয় পক্ষ ঠিক কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
Jun 16, 2026 11:55 PM IST
