Last Updated:
শান্তি আলোচনার শুরু থেকেই আমেরিকার সামনে ইরান যে শর্তগুলি রেখেছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ইজরায়েলকে লেবানন ছাড়তে হবে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা বা ইজরায়েলের সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছিল নেতানিয়াহুর বাহিনী। ইরান চায়, লেবানন থেকে পুরোপুরি নিজেদের সেনা সরিয়ে নিক ইজরায়েল।
রিয়াধ: সৌদি আরবের আল আরাবিয়া সংবাদসংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, আমেরিকা-ইরান সমঝোতা নিয়ে কিছু মূল বিষয় তারা খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
আল আরাবিয়ার দাবি অনুযায়ী, খসড়াটিতে বলা হয়েছে, সব ফ্রন্টে, এমনকি লেবাননেও, যুদ্ধ তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে শেষ করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল, সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক অঙ্গীকারের বিষয়ও রয়েছে চুক্তির মধ্যেই।
আল আরাবিয়ার মতে, এই চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকা সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের উপর নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরানি সামুদ্রিক রুটে যেটাকে ‘হস্তক্ষেপ’ বলা হচ্ছে, সেটাও বন্ধ করবে। আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাসের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ওই অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
এর বদলে, ইরান এক মাসের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেবে, যার ফলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটগুলোর মধ্যে একটিতে পুরোপুরি যাতায়াত আবার শুরু হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ফ্রেমওয়ার্কে ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনাও রয়েছে ৷ যেটি আমেরিকা এবং ‘আঞ্চলিক অংশীদার’-দের দ্বারা কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিয়ে আর্থিক সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
তবে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ‘কাঁটা’ এখনও লেবানন। ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, লেবানন থেকে ইজরায়েল যদি সেনা প্রত্যাহার না-করে, তবে চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে। এখনও সেনা প্রত্যাহার করতে নারাজ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আর তাঁর এই সিদ্ধান্তে খুশি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে, Al Arabiya-র রিপোর্ট দাবি করেছে যে চুক্তির চূড়ান্ত বাস্তবায়নের ফলে ইরানের উপর থেকে বর্তমানে চলা আমেরিকার সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, যার মধ্যে United Nations এবং International Atomic Energy Agency-র সঙ্গে সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞাগুলোও রয়েছে।
এছাড়াও রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানি পুরোপুরি অনুমোদিত হবে ৷ যার মধ্যে বিশ্ব ব্যাঙ্কিং, বীমা এবং শিপিং সিস্টেমে প্রবেশাধিকার থাকবে ৷ পাশাপাশি বিদেশে রাখা ইরানের সব সম্পদও মুক্ত করে দেওয়া হবে।
পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি:
পারমাণবিক বিষয় নিয়ে ইরান বলেছে যে তারা কোনও অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রাখার বিষয়টি চূড়ান্ত আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে ৷ আর আমেরিকা নাকি এই ‘ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে দেবে।
Kolkata,West Bengal
