Last Updated:
Uddharanpur Ghat Significance: কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, প্রাচীন নৈহাটি নগরীর গৌরব এবং বৈষ্ণব সংস্কৃতির বহু অজানা ইতিহাসের সাক্ষী কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুর ঘাট। পৌষ সংক্রান্তির মেলা থেকে শুরু করে জমিদার আমলের ঐতিহ্য, ঠিক কী কারণে আজও লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই গঙ্গাতীর?
কেতুগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: আজও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুর ঘাট। যুগের পর যুগ ধরে এই ঘাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মানুষের গভীর বিশ্বাস ও আস্থা। এখনও বিভিন্ন জেলা ও দূর-দূরান্তের এলাকা থেকে অসংখ্য পুণ্যার্থী এখানে এসে গঙ্গাস্নান করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই ঘাটে স্নান করলে পুণ্যলাভ হয় এবং জীবনের নানা অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি মেলে।
ইতিহাসবিদ গবেষক ড. স্বপন কুমার ঠাকুরের মতে, উদ্ধারণপুর ছিল প্রাচীন ও মধ্যযুগের বৃহত্তর নৈহাটি নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গঙ্গাতীরবর্তী এই অঞ্চল একসময় শবদাহ এবং গঙ্গাস্নানের জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিল। পরবর্তীকালে সোনারুন্দির জমিদারদের গঙ্গাক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিতি লাভ করে উদ্ধারণপুর। প্রাচীনকাল থেকেই গঙ্গার তীরে হওয়ায় ব্রাহ্মণ, কায়স্থ ও বণিক সম্প্রদায়ের বহু মানুষের বসতি গড়ে ওঠে এই এলাকায়।
স্বপন বাবুর দাবি, মধ্যযুগে বৈষ্ণব ধর্মচর্চারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই অঞ্চল। বৈষ্ণব সাহিত্য থেকে জানা যায়, রূপ ও সনাতন গোস্বামীর পূর্বপুরুষদের বসবাস ছিল নৈহাটিতে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে একটি পাঠবাড়িও গড়ে উঠেছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। গঙ্গার ঘাটকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় গুরুত্বের বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে ইতিহাসে। কৃত্তিবাসী রামায়ণেও গঙ্গাস্নানের মাহাত্ম্যের উল্লেখ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় উদ্ধারণপুর ঘাটও ধীরে ধীরে একটি পবিত্র তীর্থস্থানের মর্যাদা লাভ করে। এর অন্যতম প্রমাণ হল উত্তরায়ণ সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রাচীন মেলা, যা আজও অনুষ্ঠিত হয় এবং যার মূল আকর্ষণ গঙ্গাস্নান। এই ঘাটকে ঘিরে আরও একটি জনপ্রিয় জনশ্রুতি রয়েছে।
শোনা যায়, কাটোয়ায় সন্ন্যাস গ্রহণের পর শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রাঢ়ভূমি পরিভ্রমণকালে কেতুগ্রামে এসেছিলেন। গবেষকদের মতে, সেখান থেকে তিনি উদ্ধারণপুর ঘাট অতিক্রম করে গঙ্গাপথে শান্তিপুরে অদ্বৈত আচার্যের গৃহে গিয়েছিলেন। যদিও এই বিষয়ে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না, তবুও স্থানীয় মানুষের বিশ্বাসে আজও মহাপ্রভুর স্মৃতিধন্য স্থান হিসেবে পরিচিত উদ্ধারণপুর ঘাট।ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং লোকঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধনে আজও উদ্ধারণপুর ঘাট পূর্ব বর্ধমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। গঙ্গার পবিত্র জলে স্নান করতে এবং শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাসের স্পর্শ অনুভব করতে এখনও প্রতিদিন ভিড় জমান বহু মানুষ।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
Uddharanpur Ghat Significance: রামায়ণে উল্লেখ থেকে মহাপ্রভুর জলপথ যাত্রা! কীসের টানে পুণ্যার্থীরা বারবার ছুটে আসেন উদ্ধারণপুর ঘাটে? জানুন