Last Updated:
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাবাবেগ, পৌরাণিক গুরুত্ব এবং ক্ষোভকে উপলব্ধি করে এলাকার ভূমিপুত্র ধ্রুব সাহা বিষয়টি বিধানসভায় আবেদন করেন।
বীরভূম,সৌভিক রায়: এবার বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে অন্তর্ভুক্ত হল সতীর ৫১ পীঠের মধ্যে অন্যতম নলহাটির নলহাটেশ্বরী মন্দির। চলতি বছর রাজ্য বাজেটে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে’ বীরভূম জেলার মধ্যে অন্যতম এই নলহাটেশ্বরী মন্দিরের নাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মন্দিরের সেবায়েতদের মতে, বীরভূমের আধ্যাত্মিক ও পর্যটন মানচিত্রে নলাটেশ্বরী মন্দিরের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব কোনও অংশেই কম নয়। একান্ন পীঠের একটি মূল পীঠ বাদ পড়লে প্রকল্পের পূর্ণতা হয়ে ওঠে না।
আর বিধানসভায় নলাটেশ্বরী মন্দিরকে শক্তিপীঠ সার্কিটে যুক্ত করার জন্য আবেদন জানান রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। ধ্রুব সাহা নিজেও নলহাটি বিধানসভার বাসিন্দা। তিনি জানান, তাঁর আবেদন গৃহীত হয়েছে। স্বভাবতই খুশির হাওয়া নলহাটিতে। প্রসঙ্গত, ঘন জঙ্গলে ঘেরা ছোটনাগপুর রেঞ্জের পাহাড়ের উপরে অবস্থিত মায়ের প্রাচীন মন্দির। পাহাড়ের এক প্রান্তে রামচন্দ্রের পদচিহ্ন, সীতার মাথার চুল ও রামসীতার কড়ি খেলার সাতকপটার চিহ্ন রয়েছে।
১৯৬৮ সালে পাহাড়ের একদম পশ্চিমদিকে খননে পাওয়া গিয়েছিল প্রাচীন, মধ্য ও প্রস্তর যুগের নানান অস্ত্র। বর্তমানে এই সমস্ত অস্ত্র কলকাতার জাদুঘরে রাখা রয়েছে। বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে নলাটেশ্বরী মন্দিরকে কেন্দ্র করে পর্যটন বিকাশে তেমন কিছু করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, বিজেপি সরকার আসার পর স্থানীয় মানুষ আশা করেছিলেন এবার হয়তো দীর্ঘ বছর ধরে বঞ্চনার অবসান ঘটবে। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিটে বীরভূমের তারাপীঠ, নন্দীকেশ্বরী, বক্রেশ্বর, ফুল্লরা এবং কঙ্কালীতলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সেই সময় নলাটেশ্বরী বাদ পড়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা।
