Last Updated:
Baruipur Case Update: তদন্তে রাজ্য পুলিশের অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং টিমেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আনন্দ, দিবাকর, প্রভাস এবং প্রবীর মণ্ডলের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন একই জায়গায় ছিল। এই ঘটনায় প্রবীর মণ্ডল এখনও অধরা।
কলকাতা, অর্পণ মণ্ডল: বারুইপুরে ১২ বছরের কিশোরীকে অপহরণ, ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে ইতিমধ্যেই৷ আনন্দের গ্রেফতারির সঙ্গে সঙ্গেই এই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৷ আটক আরও ৩ জন৷ ঘটনার তদন্তে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ৬ সদস্যের SIT, বিশেষ তদন্তকারী দল৷ ঘটনার জেরে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর, সোনারপুর থানা এলাকায় জারি হয়েছে BNS-এর ১৬৩ নম্বর ধারা।
এর মধ্যেই সামনে এসেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ৷ সেখানে দেখা যাচ্ছে, নীল টুপি মাথায় দেওয়া, লাল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির পাশে নীল সালোয়ার কামিজ পরে হেঁটে চলেছে ওই নাবালিকা৷ ভিডিওয় তাঁর মাথায় থাকা সাদা হেয়ারব্যান্ডটাও স্পষ্ট৷ এই ভিডিওটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা৷
ইতিমধ্যেই বারুইপুর কাণ্ডে ধৃত ২ জনকে তোলা হয়েছে বারুইপুর জেলা আদালতে৷ সেখানে তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷
সূত্রের খবর, বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা যুক্ত হওয়া ধারাগুলির বিবরণ
খুন ও ধর্ষণ: মূল অপরাধের প্রেক্ষিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১০৩(১) (খুন) এবং ধারা ৬৫ (ধর্ষণ) যুক্ত করা হয়েছে।
গণধর্ষণ: ঘটনাটিতে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অত্যন্ত কঠোর ধারা ৭০(২) (গণধর্ষণ) প্রয়োগ করা হয়েছে।
নাবালিকা অপহরণ: ভুক্তভোগী নাবালিকা হওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে ধারা ১৩৭(২) এবং ১৪০(২) (নাবালিকাকে অপহরণ) যুক্ত করা হয়েছে।
প্রমাণ লোপাট ও ষড়যন্ত্র: অপরাধের তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টার জন্য ধারা ২৩৮ এবং সম্মিলিতভাবে অপরাধের ছক কষার কারণে ধারা ৬১ (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) যুক্ত করা হয়েছে।
পকসো আইন: যেহেতু নির্যাতিতা একজন নাবালিকা, তাই এই মামলায় যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইনের অত্যন্ত কঠোর পকসো (POCSO) ধারার ৬ নম্বর ধারা (গুরুতর যৌন নির্যাতন) যুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে নাবালিকার ওপর নজর রেখেছিল আনন্দ সর্দার। নাবালিকাকে বুঝিয়ে নিয়ে আসতে পারলে প্রভাসকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে জেরায় দাবি করা হয়েছে। আনন্দের কথামতোই প্রভাস নাবালিকাকে নিয়ে যায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
জেরায় আরও দাবি করা হয়েছে, পাচারের আগে আনন্দ ও তার তিন সহযোগী নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালায়। পরে নাবালিকা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে বস্তার মধ্যে ভরে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বস্তায় ভরার সময় সেটি ছিঁড়ে গেলে নাবালিকাকে ওই অবস্থাতেই জলে ফেলে দেওয়া হয় বলে দাবি।
