পটনা: গ্রামেগঞ্জের মানুষকেও এবার দিতে হবে কর। বিহারের জন্য এবার এমনই প্রস্তাব দিল কেন্দ্র। পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে অনুমোদন দিয়েছে অর্থ কমিশন। পৌরসভার আদলে এবার পঞ্চায়েত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের থেকে কর আদায় করতে বলা হয়েছে। যদিওো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে আপত্তি জানিয়েছে বিহার। তবে আগামী দিনে অন্য রাজ্যগুলিতেও গ্রামীণ কর কার্যকর হবে কি না, উঠছে প্রশ্ন।। (Annual Rural Tax)
পঞ্চায়েত এলাকার মানুষজনের থেকে কর আদায়ের প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পেশ হবে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেলেই পৌরসভা এলাকার মতো, গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষজনের কাছ থেকেও আদায় করা হবে কর। সম্পত্তি, জল, রাস্তায় আলো এবং পরিচ্ছন্নতার উপর বার্ষিক ১২০০ টাকা করে কর আদায়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। (Rural Tax in Bihar)
গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের কাছ থেকে কর আদায় নিয়ে কেন্দ্রের যুক্তি, শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা গ্রামেও পৌঁছে দেওয়া লক্ষ্য তাদের। কিন্তু তার জন্য পঞ্চায়েতগুলির যথেষ্ট আয় থাকা দরকার। ১৬তম কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের তরফেও পঞ্চায়েতগুলিকে স্বনির্ভর করে তোলার সুপারিশ জমা পড়েছে। তাদের যুক্তি, পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বাড়লে, উন্নয়নের কাজে বেশি খরচ করা সম্ভব হবে। নির্ভরশীলতা কমবে কেন্দ্রীয় অনুদানের উপর।
এর পাশাপাশি, ‘হর ঘর নল কা জল’ প্রকল্পের আওতায় পানীয় জলের জোগান অব্যাহত রাখতেও কর চালুর ভাবনা রয়েছে।। তবে সব বাড়ির উপর করের হার সমান হবে না। বসত বাড়ির উপর কর কম হবে। কর বেশি হবে দোকান, বাজার, বাণিজ্যিক বিল্ডিংগুলির। অর্থাৎ যে নির্মাণ বা বিল্ডিং দোকান, গুদাম বা অন্য ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হয়, তার উপর বেশি কর চাপবে।
পাড়ার ভিতরের বাড়ি, দোকানের চেয়ে রাস্তার উপর অবস্থিত বাড়ি, দোকান-বাজারের উপর কর বেশি হবে। কেন্দ্রের দাবি, এতে পঞ্চায়েতের আয়ের উৎস তৈরি হবে, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কেন্দ্রীয় অনুদানের উপর নির্ভর করতে হবে না। নয়া ব্যবস্থা চালু হলে নিজস্ব স্তরে রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে পঞ্চায়েতগুলি। গ্রামের রাস্তাঘাট, পরিচ্ছন্নতা, স্ট্রিট লাইট, পানীয় জল এবং অন্যান্য় পরিকাঠামোর উন্নয়ন খাতে ব্যবহার করা হবে ওই করের টাকা।
বিষয়টি সামনে আসতেই কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। সেই আবহে বিহারের পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রী দীপক প্রকাশ সোমবার জানান, গত সপ্তাহে দিল্লিতে যে জাতীয় ওয়র্কশপ হয়েছিল, অর্থ কমিশন পাঁচ বছরের জন্য বিহারে পঞ্চায়েত রাজ সংস্থাগুলির জন্য যে ৫১ হাজার ৯২৩ কোটি টাকার সুপারিশ করে, তার মধ্যে ১০ শতাংশ রুরাল লোকাল বডিজের পারফর্ম্যান্স গ্রান্ট এবং ১০ শতাংশ নিজস্ব রাজস্ব উৎস। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান তাঁরা। এব্যাপারে বিহারকে সমর্থন করেছে উত্তরপ্রদেশ এবং ছত্তীসগঢ়ও।
দীপক বলেন, “প্রত্যেক বাড়ি থেকে বছরে ১২০০ টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এর প্রয়োজন নেই। আমরা বোঝা কমানোর চেষ্টা করব। পঞ্চায়েতের খালি পড়ে থাকা সরকারি জমিগুলিতে পুকুর তৈরি করে মৎস্যচাষের ব্যবস্থা করব আমরা। পঞ্চায়েতকে স্বনির্ভর করে তুলব। কারণ বিহারের মতো রাজ্যে মানুষের ঘাড়ে অতিরিক্ত টাকার বোঝা চাপানো প্র্যাকটিক্যাল নয়। পুকুর থেকে আয় বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।” আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, আগামী দিনে অন্য রাজ্যগুলিতেও এই নীতি কার্যকর করা হবে কি না।
Suvendu Adhikari : শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূলকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর