Last Updated:
Jammu-Kashmir Encounter: গত ৩ জুলাই বাহিনীর নজরদারি ক্যামেরায় দুই জঙ্গি নজরে আসে। তার পরই মীমানদার এলাকায় জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়।
শোপিয়ান: দক্ষিণ কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য। শোপিয়ান জেলার চানাপোরা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লস্কর-ই-তইবার এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস (Rashtriya Rifles) এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF)-এর যৌথ উদ্যোগে এখনও এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় ভারী অস্ত্রসজ্জিত জঙ্গিদের উপস্থিতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর কয়েক দিন আগে এই অভিযান শুরু হয়। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং সিআরপিএফ যৌথভাবে সন্দেহভাজন এলাকাকে ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি শুরু করে।

তল্লাশি চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা গুলি চালালে পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পর যৌথ বাহিনী লস্কর-ই-তইবার এক শীর্ষ কমান্ডারকে নিকেশ করতে সক্ষম হয়। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই ঘটনায় দক্ষিণ কাশ্মীরে লস্করের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বড় ধাক্কা খেল। সূত্রের খবর, নিহত জঙ্গি কমান্ডারের পাশাপাশি আরও এক জঙ্গি এলাকায় লুকিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই কারণেই চানাপোরা ছাড়াও সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
এই অভিযানে ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। দুর্গম এলাকা, আপেল বাগান, আবাসিক অঞ্চল এবং সন্দেহভাজন বিভিন্ন জায়গায় বাহিনীর সদস্যরা দিন-রাত তল্লাশি চালাচ্ছেন। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান পরিচালনা করছে ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে বাইরের এবং ভেতরের নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সম্ভাব্য পালানোর সমস্ত পথের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে আধুনিক কৌশলে এলাকা দখল অভিযান, নজরদারি এবং এলাকা স্যানিটাইজেশনের কাজও চলছে।
বর্তমানে অভিযানটি একটি বিস্তৃত তল্লাশি ও নজরদারি অভিযানে পরিণত হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই, এলাকায় টহল এবং আশপাশের এলাকায় নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এলাকায় আরও জঙ্গি লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে অভিযান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, লস্কর-ই-তইবার এই শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যু দক্ষিণ কাশ্মীরে জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপে বড় ধাক্কা দেবে এবং জঙ্গি কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও ব্যাহত হবে।
এদিকে, অভিযান চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের মূল লক্ষ্য হল এলাকায় লুকিয়ে থাকা সব জঙ্গিকে নিষ্ক্রিয় করা এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধার করা।
৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এখনও অভিযান চলছে। তল্লাশি শেষ হলে এবং এনকাউন্টারের চূড়ান্ত মূল্যায়ন সম্পন্ন হলে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
