তেলঙ্গনা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে মৃত ব্যক্তি ঋণ করেছিলেন, তাঁর নামে থাকা সম্পত্তি যদি উত্তরাধিকার সূত্রে পরিবারের কোনও সদস্য পেয়ে থাকেন, শুধুমাত্র সেই সম্পত্তি থেকেই ব্যাঙ্ক, ঋণদানকারী সংস্থা অথবা সরকার পাওনা ঋণের অর্থ উসুল করতে পারে৷
কিন্তু মৃত কোনও ব্যক্তির বকেয়া ঋণ উসুল করতে তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যের নিজের বেতন, নিজস্ব উপার্জনে তৈরি সম্পত্তি অথবা সঞ্চয়ে হাত দেওয়া যাবে না অথবা তার দখল নেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট৷
তেলঙ্গনার কামরেড্ডি জেলার একজন প্রাক্তন পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধি জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের প্রায় ১৪.৮৯ লক্ষ টাকা তছরূপের অভিযোগ ওঠে৷ ওই পোস্ট মাস্টারের মৃত্যুর পর তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা শুরু হয়৷
অভিযুক্ত পোস্টমাস্টারের মৃত্যুর পর সরকারি কর্তৃপক্ষ মৃতের পারিবারিক কৃষিজমি নিলাম করে তছরূপ হওয়া অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করে৷ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে তেলঙ্গনা হাইকোর্টে মামলা করেন মৃতের স্ত্রী৷ তিনি যুক্তি দেন, পারিবারিক জমিতে তাঁর প্রয়াত স্বামীর অংশটুকু সরকার বিক্রি করতেই পারে, কিন্তু তাঁর এবং তাঁর দুই ছেলের নামে থাকা অংশ সরকার বিক্রি করতে পারে না৷
মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণে তেলঙ্গনা হাইকোর্ট জানায়, কোনও মৃত ব্যক্তি আইনিভাবে কোনও ঋণ বকেয়া থাকলে তাঁর উত্তরাধিকারীরা সেই দায় পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারেন না৷ একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, মৃতের যে সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পরিবারের সদস্যরা পেয়েছেন, শুধুমাত্র সেই সম্পত্তি ব্যবহার করেই বকেয়া অর্থ আদায় করা যাবে৷ পরিবারের সদস্যদের নিজের উপার্জন বা তার মাধ্যমে তৈরি সম্পত্তিতে হাত দিতে পারবে না ঋণদানকারী সংস্থা অথবা সরকার৷
এই নির্দেশে চারটি বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে-
আইনি ভাবে নেওয়া ঋণ বকেয়া থাকলে মৃতের নামে থাকা সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ পেলেও সেই সম্পত্তি ব্যবহার করেই বকেয়া অর্থ উসুল করা যাবে৷
মৃতের স্ত্রীর বেতন, অথবা নিজস্ব উপার্জনের মাধ্যমে ব্যাঙ্কের সঞ্চয়, সম্পত্তিতে হাত দেওয়া যাবে না৷
যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রেও সম্পত্তিতে মৃতের অংশটুকুই বকেয়া ঋণ আদায়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে৷ এ ক্ষেত্রে যৌথ পরিবারের সদস্যরাও কোনও আপত্তি জানাতে পারবেন না৷