ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক থেকে ফেরার পরে রো খান্নার বলা কিছু কথায় কার্যত সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত পাওয়ার যাচ্ছে যে, আগামী ২০২৮ সালের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন এই ডেমোক্র্যাট৷ তেমনটা হলে, বারাক ওবামার পরে তিনিই হবেন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি যিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন৷
মার্কিন এই কংগ্রেসম্যান বলেন, ঘটনাটি তাঁর কাছে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বাস্তব চিত্র দেখার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সংঘর্ষের পরে বর্তমানে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের প্রায় সমগ্র অঞ্চলেরই দখল নিয়েছে ইজরায়েল৷ স্থাপন করা হচ্ছে ইজরায়েলী বসতি৷ কোণঠাসা, এখানকার আদি প্যালেস্তিনীয়রা৷ উল্লেখ্য, তিনি ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন।
রো খান্না ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিবিদ। ২০১৭ সাল থেকে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (US House of Representatives) ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেসনাল জেলার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তাঁর আসল নাম রোহিত খান্না। ১৯৭৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় তিনি ভারতীয় অভিবাসী পঞ্জাবি হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর বাবা-মা ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পঞ্জাব থেকে আমেরিকা পাড়ি জমান। তাঁর বাবা ছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আইআইটি (IIT)-তে পড়াশোনা করার পরে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর মা একজন স্কুলশিক্ষিকা ছিলেন।
রো খান্না পেনসিলভানিয়ার কাউন্সিল রক হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৯৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০০১ সালে ইয়েল ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি আইনজীবী, অধ্যাপক এবং লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন বাণিজ্য দফতরে (US Department of Commerce) ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট বোর্ড-এর সদস্য ছিলেন।
২০০৪ এবং ২০১৪ সালে কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত হলেও, ২০১৬ সালে তিনি প্রথমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। এরপর টানা চারবার পুনর্নির্বাচিত হয়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন।
রো খান্না একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু। তিনি বহুবার বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আদর্শ মহাত্মা গান্ধীর দর্শন দ্বারা প্রভাবিত।
তিনি ভারতীয়-মার্কিন নাগরিক ঋতু খান্না (পূর্বনাম আহুজা)-কে বিয়ে করেছেন। ঋতুর বাবা মন্টে আহুজা একজন শিল্পোদ্যোগী। তিনি ১৯৭৫ সালে ওহাইওর সোলনে অটোমোবাইল ট্রান্সমিশন যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী সংস্থা ট্রানস্টার (Transtar) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নামেই মন্টে আহুজা কলেজ অব বিজনেস-এর নামকরণ করা হয়েছে।
প্যালেস্টাইনের ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক সফরের আগেই রো খান্না ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন। নিউ ইয়র্কে নাগরিক অধিকারকর্মী আল শার্পটন-এর সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি বলেন, একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক রূপরেখা এবং বহুজাতিগত গণতন্ত্র (Multiracial Democracy) প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিই হবে তাঁর সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রচারের মূল ভিত্তি।
নিউজউইকের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি সেই সময় বলেছিলেন, ‘‘আমি মনে করি, আমেরিকার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য আমার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, আমি ভবিষ্যতের অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করি এবং আমার কাছে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষের ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা যায়। কর্মীদের ইক্যুইটি মালিকানা, কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিপ্লবের অংশ করে তোলা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমেরিকা একদিন সব জাতির সমন্বয়ে গঠিত একটি দেশ হয়ে উঠবে, যেখানে সব ধরনের পটভূমির মানুষ একসঙ্গে বাস করবে। আমি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সেই শক্তি দেখতে পাই। আমার বিশ্বাস, একটি বহুজাতিগত আমেরিকা শুধু বাস্তবেই প্রতিষ্ঠিত হবে না, বরং সারা বিশ্বের কাছেও একটি উদাহরণ হয়ে উঠবে।’’