মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার ভাভলি বাঁধ ও জলপ্রপাত এলাকায় সপ্তাহান্তের বেড়াতে গিয়েছিল ওই পরিবার৷ রবিবার ইগতপুরী এলাকার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভাভলি ড্যাম ও জলপ্রপাত দেখতে গিয়েছিল ভগবত পরিবার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানেই একদল যুবক পরিবারের এক মহিলাকে উদ্দেশ্য করে শিস দেয় এবং অশালীন আচরণ করে। বিষয়টির প্রতিবাদ করলে প্রথমে বচসা শুরু হয়, যা পরে ভয়াবহ রূপ নেয়।
নাসিকের পুলিশ সুপার ডিএস স্বামী সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “প্রথমে বচসা শুরু হয়। এরপর প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। একজন শিস দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিবাদ শুরু হয়। পরিবারটি সেখান থেকে চলে গেলেও অভিযুক্তরা তাদের পিছু নেয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।”
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা প্রায় ১৫ কিলোমিটার ধরে ভগবত পরিবারের গাড়িকে ধাওয়া করে। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারটি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। সেই সময় হামলাকারীরা লোহার রড ছুড়ে গাড়িতে আঘাত করে। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গোটা পরিবার।
ঘটনার শিকার পুনম ভগবত দেশের আর্ন্তজাতিক মানের সংবাদসংস্থাকে জানান, “আমরা পিকনিক করতে গিয়েছিলাম। খাওয়াদাওয়া করেছি, জলে খেলেছি। ফেরার সময় দু’জন ব্যক্তি আমাকে উদ্দেশ্য করে ডাকাডাকি করতে থাকে এবং উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। আমি তাদের ধমক দিই। আমার স্বামীও প্রতিবাদ করে জানতে চান, প্রকাশ্যে একজন মহিলাকে কেন এভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।” এই প্রতিবাদের পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই দুই ব্যক্তি আশপাশের খাবারের দোকানে থাকা আরও কয়েকজনকে ডেকে আনে।
পুনমের কথায়, “মুহূর্তের মধ্যে ১০-১২ জন আমাদের ঘিরে ধরে। সবাই একসঙ্গে আমাদের দিকে তেড়ে আসে। আমার স্বামীকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।”
পুনম জানান, “আমরা গাড়িতে উঠতেই ওরা রাস্তা আটকে দেয়। তারপর গাড়ির কাচ ভাঙতে শুরু করে। এরপর একটি সাদা বালেনো গাড়ি (MH 46 BE 3721) এবং একটি হিরো মোটরসাইকেলে (MH 15 KA 4502) আমাদের ধাওয়া করে। প্রায় ২০ কিলোমিটার ধরে তারা আমাদের পিছু নেয়। লোহার রড দিয়ে গাড়িতে একের পর এক আঘাত করে। গাড়িটি কার্যত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কল্পনাও করতে পারিনি যে ওরা আমাদের এত দূর পর্যন্ত ধাওয়া করবে। চারদিক থেকে ঘিরে গাড়িতে হামলা চালাচ্ছিল। সেই সময় আমরা কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, তা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।” সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয়, হামলার সময় গাড়ির ভিতরে চারজন শিশু ছিল।
“বাচ্চারা এখনও ভয়ে আতঙ্কিত। ট্র্যাফিকে গাড়ি ধীর হলেই ওরা আমাদের কাছে পৌঁছে হামলা করছিল। কেউ মোটরবাইকে, কেউ গাড়িতে আমাদের তাড়া করছিল। আমাদের মনে হচ্ছিল, যদি কোথাও গাড়ি থামাতে হয়, তাহলে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে,” বলেন পুনম।
ঘটনার পরও নিজের অবস্থানে অনড় ওই মহিলা। তাঁর কথায়, “আমি ভয় পেয়ে চুপ করে থাকার মানুষ নই। ভবিষ্যতেও যদি এমন ঘটনা ঘটে, আমি অবশ্যই প্রতিবাদ করব। কোনও ধরনের হেনস্থা মেনে নেব না।”
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “কঠোর শাস্তি হলে ভবিষ্যতে অন্যরা এমন অপরাধ করার আগে দু’বার ভাববে।”