Last Updated:
Kalna Mahismardini Puja 2026: আশ্বিন নয়, শ্রাবণের পূর্ণিমা তিথিতেই শারদোৎসবের আবহ কালনায়। বুধবার থেকে রাজ আমলের প্রাচীন প্রথা ও ভক্তদের জয়ধ্বনিতে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী মা মহিষমর্দিনীর পুজো। চার দিনের বিশেষ পুজো চলবে এখানে। সমস্ত প্রাচীন রীতি মেনে এখনও পুজো হয় এখানে। উৎসবের মেজাজে মেতে ওঠেন মানুষ।
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: শ্রাবণের আকাশে উৎসবের আবহ। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের জয়ধ্বনিতে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে কালনার ঐতিহ্যবাহী মা মহিষমর্দিনীর পুজো। জেলার অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে গোটা কালনা শহর। ভোর থেকেই মন্দিরে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন, আর চারদিকে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে শহর। প্রতি বছর শ্রাবণী পূর্ণিমা তিথি থেকে টানা চার দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয় এই পুজো।
দুর্গাপুজোর মত আশ্বিন মাসে নয়, শ্রাবণ মাসেই দেবী মহিষমর্দিনীর আরাধনা হওয়ায় এই পুজোর রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী মায়ের দর্শনে আসেন। অনেকেই নদীতে পবিত্র স্নান সেরে দণ্ডী কেটে মন্দিরে পৌঁছে পুজো দেন এবং মানত পূরণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মনোজ সাহা বলেন, “অনেক পুরনো পুজো, ছোট থেকে আমরা দেখে আসছি। এটা আমাদের কালনার অনেক ঐতিয্যবাহী একটা পুজো। পুজোর কয়েকদিন আমরা খুব আনন্দ করে দিন কাটায়।”
পুজোর নানা প্রাচীন রীতি আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। চণ্ডীপাঠ, ভোগারতি, ধুনো পোড়ানো-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। দেবী এখানে দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পূজিতা হন এবং দুই পাশে থাকেন জয়া ও বিজয়া। ঐতিহ্য মেনে আজও পুজোর সংকল্প করা হয় বর্ধমান রাজ পরিবারের নামে এবং পরে পালচৌধুরী পরিবারের নামে। শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এই পুজোকে কেন্দ্র করে কালনার মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনমেলাও গড়ে ওঠে।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal