জয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট হওয়ার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, ‘‘৩০ বছরের দুর্গ মাত্র ৩০ দিনে ভেঙে পড়েছে। এর পতন ঘটেছে কারণ বিহারের মানুষ এখন চায়, সরকার যেন চার-পাঁচ কেজি বিনামূল্যে রেশন ও জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করে।’’
তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, যেসব সরকার সাধারণ মানুষের এইসমস্ত উদ্বেগগুলি উপেক্ষা করবে, তারা ভবিষ্যতে একই ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘যদি তারা (বর্তমান সরকার) এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ না করে, তাহলে ভবিষ্যতেও তারা একই ধরনের নির্বাচনী ফলাফল দেখতে থাকবে৷’’
বিহারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে আবেদন
কিশোর জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর লড়াই কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং বিহারে উন্নততর শাসনের জন্য। রাজ্য শাসনের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র জনাদেশ রয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েও তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করার আহ্বান জানান, যিনি বিহারের উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিতে পারবেন।
“আমাদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে এবং এনডিএ সরকার গঠন করবে। আমাদের শুধু একটিই অনুরোধ। বিহারের জনগণ, বিশেষ করে বাঁকীপুরের মানুষ, প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে অনুরোধ করছেন যেন তিনি একজন যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন, যাতে মানুষ বিহারী হিসেবে গর্ববোধ করতে পারে এবং আমাদের সন্তানেরা মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মসংস্থান পায়,” তিনি বলেন।
উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে কটাক্ষ করে কিশোর বলেন, “সম্রাট চৌধুরীর চরিত্র ও খ্যাতি ইতিমধ্যেই সর্বজনবিদিত। যদি অপরাধমূলক অতীত থাকা কোনো ব্যক্তিকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়, তাহলে বিহারের উন্নতি হতে পারে না।”
এই রায়কে উন্নয়নের জনাদেশ আখ্যা দিয়ে কিশোর বলেন, এই ফলাফল তাঁর ব্যক্তিগত বিজয় নয়, বরং বিহারের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
প্রশান্ত কিশোরের কথায়, “এটি বাঁকিপুরের জনগণের বিজয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় আমরা যেমনটা বলেছিলাম, এটি শুধু একজন বিধায়ক বেছে নেওয়ার নির্বাচন ছিল না। এটি ছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এই বার্তা দেওয়ার জন্য বিহারের জনগণের একটি প্রচেষ্টা যে, তাঁরা যেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ করেন৷”
তিনি আরও বলেন যে, মানুষ এমন একজন নেতার সন্ধান করছে যিনি শিক্ষার উন্নতি করতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে, দুর্নীতি দমন করতে এবং বিহারের যুবকদের কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে যাওয়াকে আটকাতে পারবেন।
প্রশান্ত কিশোর বলেন, জন সুরাজ পার্টির মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার নয় বরং বিহারের উন্নয়ন।