কলকাতা: প্রয়াত বর্ষীয়ান পরিচালক রাজা সেন (Raja Sen)। সদ্যই বাড়িতে পড়ে গিয়ে কোমরে চোট পেয়েছিলেন তিনি, পরিচালককে ভর্তি রাখা হয়েছিল হাসপাতালে। আজ সকাল ১০টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্য়াগ করেন। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা, ‘দামু’ সেরা শিশুচলচ্চিত্রের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। এছাড়াও দর্শকদের একাধিক বিভিন্ন স্বাদের ছবি উপহার দিয়েছেন, রাজা সেন। শুধুমাত্র সিনেমা নয়, ছোটপর্দাতেও যুগান্তকারী কিছু ধারাবাহিকের পরিচালনা করেছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সালে তাঁর পরিচালিত ‘সুবর্ণলতা’ ধারাবাহিকটি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ এবং ‘আরোগ্য নিকেতন’- এর মতো ধারাবাহিকের পরিচালক ও ছিলেন তিনিই। ‘আত্মীয় স্বজন’, ‘চক্রব্যূহ’, ‘দেবীপক্ষ’, ‘তিনমূর্তি’-র মতো সিনেমা পরিচালনা করেছেন তিনি। রাজা সেনের মৃত্যুতে, শোকস্তব্ধ টলিউড।
বারে বারে শারীরিক সমস্যা, শেষরক্ষা হল না
বাড়িতে পড়ে গিয়ে, কোমরে চোট পাওয়ার পরে, প্রথমে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল রাজা সেনকে। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, তাঁকে এসএসকেএম-এ নিয়ে আসা হয়। গত বছরই একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন পরিচালক। তাঁর ফুসফুস ও কিডনির সমস্যাও দেখা দিয়েছিল পরবর্তীকালে। প্রখ্যাত পরিচালককে রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। তবে শেষরক্ষা হল না। আজ সকালে হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পরিচালক। রবিনা টন্ডন থেকে শুরু করে জয়া বচ্চনের মতো বলি তারকারাও টলিউডে কাজ করে গিয়েছিলেন এই রাজা সেনের হাত ধরেই। ২০২৫ সালে ৭০ বছর পূর্ণ করেছিলেন রাজা সেন। একটি নয়, প্রয়াত পরিচালকের ঝুলিতে রয়েছে, ৩টি জাতীয় পুরস্কার। আজ পরিচালকের মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় নন্দনে। পরিচালককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন টলিউডের অনেক তারকারাই।
রাজা সেনের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড
রাজা সেনের প্রয়াণে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘একজন কিংবদন্তির বিদায় সবসময়ই বেদনাদায়ক। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান আমাদের কাছে অমূল্য। রাজাদা, আপনাকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আপনার সৃষ্টি ও স্মৃতি চিরকাল থেকে যাবে।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত লিখেছেন, ‘রাজাদা আমাদের কাছে একটা ফেনোমেনা। রাজা সেনের লেগ্যাসি, তাঁর ব্যক্তিত্ব, ভাবনা… তাঁর কাজের ভেতরে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে, আর তার ‘ভ্যারাইটি অফ সাবজেক্টস’ অনেকটা তপন সিনহার মতো— ‘ভ্যারাইটি অফ সাবজেক্টস’ নিয়ে উনি যেভাবে কাজ করেছেন, কখনও ‘দামু’, কখনও ‘আত্মীয়স্বজন’, কখনও ‘খাঁচা’, কখনও ‘তিন মূর্তি’, কখনও ‘মায়ামৃদঙ্গ’, কখনও ‘দেবীপক্ষ’, কখনও আরও অনেক ছবি এবং কি অসাধারণ অসাধারণ ডকুমেন্টারিজ় উনি করে গিয়েছেন! শম্ভু মিত্রের মতো মানুষের সঙ্গে, মানুষকে নিয়ে ডকুমেন্টারি বানিয়েছেন। উনি একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন, তাঁর ছন্দপতন হল।’
আরও পড়ুন: Cristiano Ronaldo: পরিবারের সায় ছিল না! রোনাল্ডো-জর্জিনার বিয়ের মাত্র ৩০ সেকেন্ড আগে জানতে পারেন মা