চণ্ডীগড়: বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে পঞ্জাবে বড় রদবদল কংগ্রেসের। অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিংকে নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছিল। এবার পঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত AICC-র সাধারণ সম্পাদক ভূপেশ বাঘেলকে রাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। পরিবর্তে রাজস্থানের সচিন পাইলটের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল। সচিন গাঁধী পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। (Sachin Pilot in Punjab)
সচিনের হাতে পঞ্জাবের দায়িত্ব তুলে দিয়ে সকলকে কার্যত চমকে দিয়েছে কংগ্রেস। পঞ্জাবে দলের ঐক্য ধরে রাখাই মূল কাজ হবে সচিনের। এব্যাপারে পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। কারণ রাজস্থানে অশোক গহলৌতের সঙ্গে তাঁর সংঘাত নিয়ে একসময় সরগরম ছিল জাতীয় রাজনীতি। তার পরও কংগ্রেসের হাত ছাড়েননি সচিন। ফলে পঞ্জাবের দায়িত্বস্বরূপ তাঁকে পুরস্কৃত করা হল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, এতে কংগ্রেসের অন্দরে সচিনের গুরুত্ব বাড়ল অনেকটাই। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এগিয়ে গেলেন অনেকটাই। (Punjab Assembly Elections 2027)
আরও পড়ুন: জেলবন্দি আসামিদের বাইরে গিয়ে কাজ ও টাকা রোজগারের সুযোগ এবার, কারা ব্যবস্থায় এবার বড় পরিবর্তন?
কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা রাজেশ পাইলটের ছেলে সচিন। মনমোহন সিংহের আমলে কেন্দ্রে মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। রাজস্থানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি, উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক হন এবং ২০২৩ সালে দায়িত্ব পান ছত্তীসগঢ়ের। এতদিন গুঞ্জন ছিল যে সচিনকে রাজস্থানের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কারণ ২০২৮ সালে সেখানে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে পঞ্জাবে গুরুদায়িত্ব পেলেন তিনি।
বেশ কিছু দিন ধরেই পঞ্জাবে প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে অন্তর্ঘাত চরমে পৌঁছেছে। অমরিন্দরের অপসারণ চাইছিলেন চরণজি সিংহ চান্নি। বিদ্রোহের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ১ জুলাই জানিয়ে দেওয়া হয় যে অমরিন্দরই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন। প্রচার কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় চান্নিকে। কিন্তু তাতেও সমস্যা মেটেনি। হাজার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি সামলাতে পারেননি বাঘেল। বরং পরিস্থিতি এমন হয় যে তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার চোখে পড়ে জায়গায় জায়গায়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল পদ থেকে।
শুধু চান্নিই নন, বাঘেলের উপর চটেছিলেন পঞ্জাব বিধানসভায় কংগ্রেসের নেতা প্রতাপ সিংহ বাজওয়া। দলের সাংসদ সুখজিন্দর সিংহ রণধাওয়া, বিজয় ইন্দর সিংলাও অমরিন্দরের উপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। সচিন দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁরা সকলেই এখন খুশি। সচিনকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে। শীঘ্রই পঞ্জাব সফরে যাওয়ার কথা রাগুল গাঁধীর। বাসে চেপে গোটা রাজ্যে ঘুরবেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে পঞ্জাবে মূল লড়াই কংগ্রেস এবং ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির মধ্যে। বিজেপি-র সঙ্গে ফের জোটে ফিরছে শিরোমণি অকালি দলও। রাঘব চাড্ডাকে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই আবহে সচিনের সামনে চ্যালেঞ্জও যথেষ্ট।
শনিবার এই রদবদলের ঘোষণা করে কংগ্রেস। সেই মর্মে সাংবাদিক বৈঠকও করেন AICC-র সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল। দলের তরফে জানানো হয় যে, রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালাকে গুজরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রীবেল্লা প্রসাদ দায়িত্ব পেয়েছেন মহারাষ্ট্রের। পিভি মোহন সামলাবেন অন্ধ্রপ্রদেশ।
দায়িত্ব থেকে আপাতত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে জিতেন্দ্র সিংহ, রমেশ চেনিথালা, মনিকম ঠাকুরকে। দলের জন্য যে কাজ তাঁরা করেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে সকলকে। মুকুল ওয়াসনিক যদিও পদে আসীন থাকছেন।
Sumit Roy | শনির সন্ধ্যায় Abhishek Banerjee-এর আপ্তসহায়কের বাড়িতে পুলিশ! কেন?