সুজিত সরকার, নদিয়া: নেপালের বীভৎস হড়পা বানের স্মৃতি, এখনও তাজা সাধারণ মানুষের মনে। কীভাবে হড়পা বানে মুছে গিয়েছিল একের পর এক জনপদ, সেই ভয়াল দৃশ্য এখনও যেন ভুলতে পারেননি মানুষ। এখনও বহু মানুষের খোঁজ মেলেনি, কাদা-পাঁকের তলায় এখনও বহু দেহ। উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আর যেন একবার সেই স্মৃতিই ফিরে এল নদিয়ার শ্রীরামপুরে! গঙ্গার ভাঙন যথেষ্ট ভয়াবহ, সেই প্রমাণ আগেও পেয়েছেন মানুষ। ফের একবার সেই ছবিটাই ফিরে এল, নদিয়ার শ্রীরামপুরে। রাতভর বৃষ্টি আর তারপরেই গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে গেল, নদিয়ার শান্তিপুরের গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুরের একাধিক বাড়ি!
সতর্ক হওয়ার সুযোগও পাওয়া গেল না, গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে গেল একের পর এক জমি-বাড়ি
স্থানীয়দের দাবি, বুধবার রাত পৌনে ৮টা থেকে ১০টার মধ্যেই হঠাৎ করে এই গঙ্গার ভাঙন ঘটে। আগে থেকে কোনও সতর্কতা নেওয়ার সুযোগই দেয়নি নদী। হঠাৎ ভাঙনে তলিয়ে যায়, প্রায় ৮ থেকে ১৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও ভিটে। রের আসবাব, ধান, বইপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিও রক্ষা করা যায়নি। এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে, ওই প্রায় তলিয়ে যাওয়া ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে সরব হয়েছেন, ওই এলাকার গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি বছর বালির বস্তা ফেলে দায়সারা কাজ হয়, কোনও স্থায়ী সমাধান হয় না। তাঁদের দাবি, তারের খাঁচায় পাথর দিয়ে শক্ত বাঁধ তৈরি করতে হবে। গঙ্গার ভাঙনে, জমি-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার পরে, ঘটনাস্থলে যান শান্তিপুরের বিডিও-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। আপাতত ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রিপল ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাঁদের জমি আর বাড়ি গঙ্গার ভয়াল ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ভাঙন রোধে সেচ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, স্থলভাগের দিকে আরও এগিয়ে এসেছে, অতি গভীর নিম্নচাপ। সমুদ্র ছেড়ে এই নিম্নচাপ স্থলভাগে ঢুকে ক্রমশই এগোচ্ছে উত্তর-পশ্চিম দিকে। বর্তমানে, অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর উপকূলভাগে অবস্থান করছে অতি গভীর নিম্নচাপ। এর ফল কী হতে পারে? আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, স্থলভাগে পৌঁছে ক্রমে শক্তি হারাবে গভীর নিম্নচাপ। তবে বর্তমানে দুর্যোগ না হলেও, এই নিম্নচাপের জেরে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি চলছে দক্ষিণবঙ্গে। এই বৃষ্টি চলবে আরও কয়েকটা দিন।
আরও পড়ুন: Prabir Das: হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে, শরীরের সঙ্গে কঠিন লড়াই! প্রবীরের পাশে সবসময় থেকেছেন গীতশ্রী