নয়াদিল্লি: Artificial Intelligence তথা AI নিয়ে এবার বড় আশঙ্কার কথা জানালেন ধনকুবের বিল গেটস। মাইক্রোসফ্টের সহপ্রতিষ্ঠাতার দাবি, AI-এর অপব্যবহার হতে পারে। AI-এর হাতে প্রাণ যেতে পারে ১০০ কোটি মানুষের। AI-কে নিয়ন্ত্রণ করতে অবিলম্বে বিধিনিষেধ কার্যকর করার কথা বললেন তিনি। তাঁর এই দাবি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। (Bill Gates on AI)
AI-এর বাড়বাড়ন্তে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে একে একে মুখ খুলছেন রথী-মহারথীরা। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল গেটসের। NBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। দুষ্টু লোকের হাতে AI পড়লে, তার অপব্যবহার হলে পৃথিবীর বুকে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। (AI Risks)
আরও পড়ুন: ‘জ্ঞানেশ কুমার মাস্ট গো, আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেব’, শ্রীরামপুরে তীব্র আক্রমণে মমতা
AI নিয়ে যে আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে, তা নিয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল। জবাবে গেটস বলেন, “AI নিঃসন্দেহে এমন সব ঘটনা ঘটাতে পারে, যা ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে। ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে বলাটা মুশকিল। কিন্তু অত্যাধুনিক AI-এর মতো এত শক্তিশালী অস্ত্র আগে কখনও অসৎ লোকের হাতে ওঠেনি।”
AI-কে খুব বেশি শক্তিশালী হতে দেওয়া যাবে না, কঠোর বিধিনিষেধ জারি হওয়া উচিত বলেও মত গেটসের। তাঁর কথায়, “কঠোর আইন বলবৎ হওয়া দরকার। রাজনীতিকদের এই আলোচনায় আনতে হবে। নিরাপত্তা, নজরদারি মজবুত করতে হবে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে। ওগুলো থাকতেই হবে। এতে কাজের চাপ বাড়বে অবশ্যই। বাড়তি দায়িত্ব চাপবে কাঁধে। তবে AI সংস্থাগুলির কার্যক্রমের গতিতে তেমন কোনও বড় প্রভাব পড়বে বা কাজ থমকে যাবে এমন নয়।”
AI নিয়ে বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ স্যাম অল্টম্যান। ধনকুবের ইলন মাস্ক পর্যন্ত কাজকর্মের গতি শ্লথ করার পক্ষে সওয়াল করেন। এবার সেই নিয়ে আরও বড় দাবি করলেন গেটস। ঘটনাচক্রে ব্রিটেনের Alan Turing Institute কয়েক দিন আগেই গোটা বিশ্বকে সতর্ক করে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ‘অতি বুদ্ধিসম্পন্ন’ AI এবং AI চালিত যন্ত্রের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে মানুষ।
Alan Turing Institute-এর যে রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়, সেটির নাম ছিল Frontier AI Poses Credible near term risks—demanding practical research, robust regulation, whole-system verification and international cooperation. রিপোর্টে বলা হয়, ‘AI-এর সক্ষমতা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেলে, তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অতি বুদ্ধিসম্পন্ন AI-এর অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা বাস্তবিক। গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্মে, জ্ঞানের বিরিখে মানুষকে ছাপিয়ে যেতে পারে তারা। AI যদি নিজস্ব কোনও কৌশল তৈরি করে, তাতে মানুষের নিয়ন্ত্রণ আর নাও খাটতে পারে। শুধুমাত্র তথ্য বা সার্বিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নয়, AI রাসায়নিক এবং জৈবিক হাতিয়ারও তৈরি করতে পারে’।
Anthropic থেকে পদত্য়াগ করার পর জেকব কক্সোনও একই দাবি করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, চলতি দশকের শেষেই মানুষ মারতে পারে AI.