রবিবার এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, আসন্ন আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ইরান চিন্তিত নয়। পরিবর্তে দেশটি তার জাতীয় স্বার্থের উপরই গুরুত্ব দেবে। তিনি বলেন, তেহরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে একইসঙ্গে যে কোনও নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতেও প্রস্তুত।
আরাঘচি বলেন, “আমরা যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, নতুন কোনও আগ্রাসন হলে ইরান দৃঢ়ভাবে তার মোকাবিলা করবে, এমনকি পরিস্থিতি তাঁর কথায় “প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধে” পরিণত হলেও। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তেহরান কূটনীতির জন্যও প্রস্তুত রয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
ইরান বলছে, কূটনীতির জন্য তারা প্রস্তুত:
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার সঙ্গে সম্পর্কিত ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তেহরান আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সময় আরাঘচি এই মন্তব্য করেন।
রবিবার ইরান জানায়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা এখনও ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে। আরাঘচি বলেন, তেহরান ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া শুনেছে, তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এখনও আমেরিকার অবস্থান পায়নি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান সাত দিনের একটি রোডম্যাপ পেশ করেছিল। সেই রোডম্যাপ অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ফের শুরু করা সম্ভব হতে পারে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।
রবিবার আরাঘচি ফের জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের শর্তে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার দিকে কোনও পদক্ষেপ বা আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে তেহরানের শর্তগুলি পূরণ করা হয়েছে কি না, তার উপর।
আরাঘচি: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ইরান চিন্তিত নয়:
আরাঘচি ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বও খারিজ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত নই; আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ নিয়ে চিন্তিত।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, পাশাপাশি পরিস্থিতির সম্ভাব্য যে কোনও অবনতির জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং লড়াই বন্ধ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এই মন্তব্য সামনে এল। তবে তেহরান এখনও জানিয়ে আসছে, তারা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
‘নতুন আগ্রাসন হলেও পরিস্থিতি একই থাকবে’:
আরাঘচি আগের সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন এবং যুক্তি দেন, নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলেও তেহরানকে পিছু হটতে বাধ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, লড়াই ফের শুরু হলে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে, তবে একইসঙ্গে কূটনীতির জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।
রবিবার আরাঘচির মন্তব্যে তেহরানের অবস্থানের দুটি দিকই স্পষ্ট হয়েছে। ইরান বলছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়, কিন্তু একইসঙ্গে সতর্ক করে দিচ্ছে যে কূটনীতি ব্যর্থ হলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের জন্যও তারা প্রস্তুত।