পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি অবগত দুই ইজরায়েলি সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, ককপিটে ক্যাপ্টেনের উপর ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে হামলা হওয়ার পর ইজরায়েল বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার জন্য প্রস্তুত ছিল। সূত্রগুলির দাবি, ৯/১১-এর মতো সম্ভাব্য ঘটনার ক্ষেত্রে ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। হামলার পর বিমানটি ১৪,০০০ ফুট নীচে নেমে গেলে ইজরায়েলি বিমানবাহিনী ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে, কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। একটি কমান্ড সেন্টার তৈরি করা হয় এবং ইজরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়।
বিমানটি সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যাওয়ার পর ইজরায়েল তাদের যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে নেয়। এরপর রিয়াধও নিজেদের যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন এবং একদল ইজরায়েলি যাত্রী ও ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ইজরায়েলের হাতে কী কী বিকল্প ছিল?
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি যদি বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে চলে আসত, তাহলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইজরায়েল জর্ডানের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান পাঠাত। ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানের পাইলটরা ককপিট পর্যবেক্ষণ করতে এবং পাইলটের সঙ্গে দৃশ্যমান যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে যতটা সম্ভব বিমানের কাছাকাছি যেতেন, যাতে পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
কেবিনে আতঙ্কের পরিস্থিতি রয়েছে বলে মনে হলে, যুদ্ধবিমানের পাইলটরা তাঁদের পর্যবেক্ষণের বিষয়টি বিমানবাহিনী এবং আগে থেকেই গঠিত একটি কমিটিকে জানাতেন। বিমানটি ছিনতাই করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ছিনতাইকারীরা রেডিয়ো যোগাযোগে নীরব রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত হলে, ওই কমিটি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করত।
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোনও বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করার নীতি ইজরায়েলের রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে। ইজরায়েলি সূত্রগুলি জানিয়েছে, যাত্রীবাহী বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করাকে সেই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে—যদি বিমানটি ইজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ আজরিয়েলি ভবনগুলি, বিমানবন্দর অথবা অন্য কোনও “হাই-ভ্যালু টার্গেট”-এ আছড়ে পড়ে, তাহলে বহু শত মানুষের মৃত্যু হতে পারত।
ওমানি সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে রয়েছেন। সেখানে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে বিমানটি জরুরি অবতরণ করার সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তদন্তে অংশ নিতে ইজরায়েলও তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিদের সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পাঠিয়েছে।
‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-হাম্মামি ইজরায়েলগামী বিমান পরিষেবা দেওয়া বিভিন্ন এয়ারলাইন্স সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন এবং ককপিটে হামলার কয়েক মাস আগে ইজরায়েলেও গিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের তিনি নাকি বলেছিলেন, “আমি সব এয়ারলাইন্সে চাকরির জন্য আবেদন করার চেষ্টা করেছিলাম। কোন কোন এয়ারলাইন্স তেল আভিভে উড়ান চালায়, তা আমি খতিয়ে দেখেছিলাম। সেই কারণেই আমি ফ্লাইদুবাইকে বেছে নিয়েছিলাম। আমাকে চাকরিতে নেওয়ার আগেই আমি [এই অভিযান] পরিকল্পনা করেছিলাম।”
পাইলটকে সঠিকভাবে যাচাই না করার অভিযোগে মোসাদ এবং ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইজরায়েল ও ওমানের মধ্যে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র সেই সব দেশের পাসপোর্টধারী পাইলটরা ইজরায়েলের বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেন, যেসব দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।