তদন্তকারীদের মতে, প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে কী করা হবে, তার জন্যও ‘প্ল্যান বি’ তৈরি রেখেছিলেন ওই সহ-পাইলট। সে ক্ষেত্রে জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে অভিযুক্তের পরিচয় ওমানের নাগরিক আল-হামামি বলে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে ওঠার অনেক আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। জুলাই মাসেই হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তবে এক ক্রু সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন বলে ইজরায়েলি আধিকারিকদের দাবি।
তদন্ত অনুযায়ী, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল তেল আভিভের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি ভেঙে ফেলা। ইজরায়েলে পৌঁছনো সম্ভব না হলে জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
ইজরায়েলি আধিকারিকদের দাবি, জুন মাসেই ইজরায়েলে গিয়েছিলেন আল-হামামি। ‘শহিদ’ হওয়ার জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন বলে ‘ইয়েনেট’-কে জানিয়েছেন তাঁরা। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত অন্য রিপোর্টেও দাবি করা হয়েছে, এর আগে ইজ়রায়েলগামী একটি বিমানকে নিশানা করার কথা ভেবেছিলেন তিনি। পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।
কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগের প্রমাণ মেলেনি
এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন বা বিদেশি সরকারের নির্দেশে কাজ করছিলেন, এমন কোনও প্রমাণ তদন্তকারীরা পাননি। প্রাথমিক ভাবে তিনি একাই এই পরিকল্পনা করেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন দেশে তাঁর যাতায়াত এবং যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইজরায়েলের বিরোধী বা শত্রু হিসাবে বিবেচিত দেশগুলিতে তাঁর সফরের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। ওই সব সফরে এমন কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল কি না, যিনি তাঁকে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ বা প্রভাবিত করতে পারেন, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্য দিকে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজ়িল্যান্ডেও তাঁর অতীত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ, ভিক্টোরিয়া পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজ়েশনের যৌথ সন্ত্রাসদমন দল তদন্ত করছে। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন তিনি এবং তাঁর কাছে সে দেশের ছাত্র ভিসা ছিল।
৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে পাইলটকে সহ-পাইলট হামলা করার পরেই এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসে। বিমানে থাকা অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন ইজরায়েলি। পরে বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করলে যাত্রীদের নিরাপদে নামানো হয়।
হামলায় আহত হলেও ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর ফের ককপিটে ঢুকতে সক্ষম হন। তাঁর দাবি, বিমানটি দ্রুত নীচে নামছে বুঝতে পেরে আহত অবস্থাতেই ককপিটের দরজায় পৌঁছনোর চেষ্টা করেন তিনি। ১৭ বছরের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন বলে জানান ক্যাপ্টেন।
বিমানটি আচমকা প্রায় ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে যাওয়ার পর যাত্রীরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন বলে ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে। যাত্রী মিরিয়াম শিরা ওহায়ন বিমানটিকে সেই সময় ‘প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে বর্ণনা করেন।
ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে মন্তব্য করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্সিয়াল উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ‘ইসলামপন্থী উগ্রপন্থার প্রভাবে’ এই কাজ করেছিলেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, হামলাকারী বিমানকর্মীদের উদ্দেশে ‘আমাকে মেরে ফেলুন’ বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তি আত্মঘাতী ছিলেন। ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের মধ্যে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। পরে যাত্রীদের একটি বিকল্প বিমানে করে ইজ়রায়েলে ফেরানো হয়।