Last Updated:
Pakistan Water Shortage: সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত থাকার আবহে ২০২৬-২৭ সালের খরিফ মরশুমে পাকিস্তানে জলপ্রবাহ ২২ শতাংশ কমার আশঙ্কা। সেচের জলে ঘাটতি দেখা দিলে দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।
ইসলামাবাদ: তীব্র জলসঙ্কটের আশঙ্কা পাকিস্তানে৷ ২০২৬-২৭ সালের খরিফ মরশুমে সিন্ধু অববাহিকায় জলপ্রবাহ ২২ শতাংশ কম হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। CNN-News18-এর হাতে আসা পাকিস্তানের একটি সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকেই স্থগিত রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty বা IWT)। এই পরিস্থিতিতে আগামী খরিফ মরশুমে জলপ্রবাহের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
পাকিস্তানের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পঞ্জাব ও সিন্ধু—উভয় প্রদেশেই সামগ্রিকভাবে জলের ঘাটতি ২২ শতাংশ বলে হিসাব করা হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক খরিফ মরশুমেও পাকিস্তানে জলপ্রবাহ ২২ শতাংশ কমেছে।
সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত থাকার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার সরব হয়েছে পাকিস্তান। ভারতের বিরুদ্ধে ‘জলযুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগও তুলেছে তারা। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার জানিয়েছে, ‘রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না’। ভারতের বক্তব্য, পাকিস্তানকে আগে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
গত বছরও একই ধরনের সেচ সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর মে মাসে গুরুত্বপূর্ণ খরিফ মরশুমের শুরুতেই পাকিস্তানের সরকারি নথিতে জলের ঘাটতি ২১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বন্যা এবং বরফ গলার জেরে শেষ পর্যন্ত সেই সঙ্কট অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
পাকিস্তানের সরকারি নথিতে জলাধারগুলিতে জলের স্তর কমে যাওয়া, নদীতে জলপ্রবাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ঝিলম-চেনাব নদী ব্যবস্থায় জলের প্রবাহ হ্রাস নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে। চেনাব নদীতে ভারতের তরফে পর্যাপ্ত জল না পাওয়ার কারণে তৈরি হওয়া সঙ্কটের কথাও উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের আধিকারিকরা।
পাকিস্তানের কৃষিকাজে পঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সেচনির্ভর কৃষির বড় অংশই এই দুই প্রদেশের উপর নির্ভরশীল। সরকারি নথি থেকে স্পষ্ট, পশ্চিমের নদীগুলির কয়েকটি অংশে জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আগামী মরশুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তানের জলসম্পদ কর্তৃপক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে সিন্ধু অববাহিকায় জলপ্রবাহের যে কোনও পরিবর্তন পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, দেশের কৃষি উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই সিন্ধু অববাহিকা সেচ ব্যবস্থার (Indus Basin Irrigation System) উপর নির্ভরশীল। ফলে আগামী খরিফ মরশুমে পর্যাপ্ত জল না মিললে পাকিস্তানের কৃষিক্ষেত্রে নতুন করে সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
