এই হামলায় আহত আটজনের মধ্যে দু’জন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন। দূতাবাস জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং ঘটনাটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।
এক্স-এ (X) একটি পোস্টে দূতাবাস জানিয়েছে, “সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে যে, গতকাল, বুধবার রাতে দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় দুর্ভাগ্যবশত যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। এছাড়া, দু’জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। আমরা ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”
দূতাবাস আরও লিখেছে, “নিহত ব্যক্তির পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
নিহত ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় তখনও নিশ্চিত করতে পারেনি দূতাবাস।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগুলিতে হামলা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল।
শায়বাহ তৈলক্ষেত্রে হামলা:
বুধবার সকালে সৌদি আরবের শায়বাহ তৈলক্ষেত্রের কাছে আকাশে প্রতিহত করা একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দু’জন আহত হন।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রকের মতে, সৌদি অ্যারামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে এগিয়ে আসা একটি ড্রোনকে প্রতিহত করে সে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রক জানিয়েছে, “শায়বাহ তৈলক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোনটিকে প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দু’জন আহত হয়েছেন।”
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রুব আল-খালি মরুভূমিতে অবস্থিত শায়বাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সৌদি আরামকো এটি পরিচালনা করে। দেশের তেল উৎপাদন পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। হুথিরা রিয়াধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান আরও জোরদার করার সময় এই ঘটনার খবর সামনে আসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিমানবন্দর, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তারা।
উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের দীর্ঘদিনের সংঘাত চলছে। তবে ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর নতুন করে এই সংঘাত তীব্র হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন জায়গা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে।