গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ, কেন স্বয়ংক্রিয় নবীকরণে নারাজ ভারত?

১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ফরাক্কা গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। চুক্তিতে স্বয়ংক্রিয় নবীকরণের কোনও ধারা নেই। ফলে নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশকে চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই পক্ষই নিজেদের স্বার্থ সর্বাধিক করার চেষ্টা করছে। কারণ, ‘সেই রামও নেই, নেই সেই রাজত্ব’৷ দু’দেশের সরকার বদলেছে৷ দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক পরিস্থিতিও বদলেছে৷ ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলাদেশের পছন্দ অনুযায়ী পুরনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে না।

ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য, নতুন চুক্তি হলে সেখানে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে গঙ্গার উজানে জল ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো নিশ্চয়তামূলক ধারা ফেরানোর দাবি জানাচ্ছে। ওই ধারায় ফরাক্কায় জলপ্রবাহ কমে গেলেও শুষ্ক মরসুমে বাংলাদেশের জন্য একটি ন্যূনতম জলপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা ছিল। ঐতিহাসিকভাবে সেই পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ।

তবে ভারত কঠোর জলবণ্টন সংক্রান্ত নিশ্চয়তার বিরোধিতা করছে। দিল্লির মতে, জলপ্রবাহের প্রকৃত প্রাপ্যতার ভিত্তিতে আরও নমনীয় ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে ভারতের উজানের প্রয়োজনও সুরক্ষিত থাকে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চায় বাংলাদেশ, স্বল্পমেয়াদি মেয়াদের পক্ষে ভারত

জল নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি বা প্রায় অনির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি চাইছে। অন্যদিকে, ভারত তুলনামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক মহলও এই জলবণ্টন ইস্যুতে সরব। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র নেতা নাহিদ ইসলাম জলবণ্টনের দাবির সঙ্গে ট্রানজিট করিডরের বিষয়টি যুক্ত করেছেন। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ভারত অবশ্য গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তিকে বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অংশ হিসেবেই দেখছে। দিল্লির অবস্থান, অন্যান্য বিষয়ে অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চপর্যায়ের ভারত সফর ছাড়া জলবণ্টন নিয়ে বড়সড় ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

হাসিনা সরকারের সঙ্গে চুক্তি, তারেক রহমানের আমলে বদলেছে পরিস্থিতি?

সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকারের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার এবং নাহিদ ইসলামের মতো বিরোধী নেতাদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে বেশি সংঘাতপূর্ণ। তাঁরা ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো নিশ্চয়তামূলক ধারা ফেরানোর দাবি জানাচ্ছেন। পাশাপাশি, জলবণ্টনের সঙ্গে ট্রানজিট করিডরের বিষয়টি যুক্ত করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের সরকারি সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার আমলে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নির্ভরযোগ্যতা ছিল, বর্তমানে তার আর একই মাত্রা নেই।

সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ভারত এখন স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং প্রকৃত জলপ্রবাহের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে নমনীয় জলবণ্টন ব্যবস্থার পক্ষেই রয়েছে।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog Impatto – Personal Blog WordPress Theme. Import Entries for Gravity Forms ImportWP Pro - WordPress XML & CSV Importer Impreza – Multi-Purpose WordPress Theme Improved Product Options for WooCommerce Improved Sale Badges for WooCommerce Improved Variable Product Attributes for WooCommerce In Conference – Meetup & Business Events WordPress Theme Inactive Logout Pro Inbusiness – Coaching Business Elementor Template Kit