Last Updated:
US-Iran Peace Deal: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী তেহরান। কাতারের মধ্যস্থতায় দেওয়া প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে ইরান। তবে কি এবার আমেরিকা-ইরান সংঘাতের অবসানে মিলতে চলেছে শান্তিচুক্তির সূত্র?
ইরান: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তেহরান। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সঙ্গে চলা সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। এবার সেই বিষয়েই আলোচনার দরজা খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা ছাড় দিতেও রাজি হতে পারে ইরান।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত কাতারের জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখছে তেহরান। দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কাতার। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আরও স্বচ্ছতা দেখাতে ইরান রাজি হলে ফের গতি পেতে পারে শান্তি আলোচনা। গত জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই কার্যত থমকে রয়েছে সেই আলোচনা। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং রয়টার্স-এর প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছে, নিজেদের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে আপসে রাজি হতে পারে ইরান।
সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা নিয়ে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারের আমিরের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান সূত্র বের করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত। পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আমেরিকার মিত্র দেশগুলির উপর হামলা চালায় তেহরান। এর জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় বেড়ে যায়। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপও আরও বাড়ে।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরান যাতে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটাই ছিল সামরিক অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। যদিও তেহরানের বরাবরের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত করতে সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে কাতার। বৃহস্পতিবার সৌদি আরব ও কাতারের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা করে ফোনে কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েই মূলত আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে।
এ ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, তুরস্ক, কুয়েত, সাইপ্রাস এবং জর্ডনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই মস্কোয় গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বৈঠকে পুতিনের হাতে দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের একটি বার্তা তুলে দেন রেজাই।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এই কূটনৈতিক তৎপরতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই নির্বাচনে বড়সড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। যুদ্ধের বিরোধিতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের উপর নতুন করে হামলা চালানোর কোনও তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা তাঁর নেই। ফলে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কিছুটা কমেছে।
