কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভোট লুঠের অভিযোগ খারিজ কমিশনের। ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো, জানাল কমিশন। স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোট গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ, জানাল কমিশন (Election Commission)। ‘কখনও বন্ধ করা হয়নি সিসিটিভি, তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে কোনও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেনি’, কলকাতা দক্ষিণের ডিইও-র রিপোর্টকে উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মারধরের অভিযোগ খারিজ কমিশনের। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মনগড়া, পাল্টা দাবি কমিশনের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর করাতেই বন্ধ ভোট গণনা, জানাল কমিশন। ‘পরে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে জানিয়েই ভোট গণনা শুরু হয়’, কলকাতা দক্ষিণের ডিইও-র রিপোর্ট উল্লেখ করে জানাল নির্বাচন কমিশন।
ভবানীপুরে হারের পর থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কমিশনই ভিলেন হয়েছে, হেরে গিয়ে কমিশনকে নিশানা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,’বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে, সব অফিসারদের বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ভোট লুঠ করেছে।’
এদিকে, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরের দিনই মমতা-অভিষেকের অতিরিক্ত নিরাপত্তায় কাটছাঁট করে দেওয়া হল। মমতার বাড়ির সামনে থেকে উঠল ‘সিজার্স ব্যারিকেড’। Z+ ক্যাটিগরির সুরক্ষা পান মমতা-অভিষেক দুজনেই। কিন্তু ২জনই পেতেন Z+ ক্যাটিগরির চেয়েও অতিরিক্ত সুরক্ষা। পর্যালোচনা করে বাড়তি নিরাপত্তা তুলে নিল শেষ পর্যন্ত পুলিশ।
শুধু কালীঘাটেই নয়। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরেও কমল নিরাপত্তা। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কালীঘাট রোড, ক্যামাক স্ট্রিটে সুরক্ষায় কাটছাঁট।
তুলে নেওয়া হল বাড়ির সামনে রাস্তার ‘সিজার্স ব্যারিকেড’। পুলিশ সূত্রে খবর, কাল সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে সরবে বাড়তি নিরাপত্তা। পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ‘যাদের যে ক্যাটিগরির সুরক্ষা পাওয়ার কথা, কোথাও কি তার চেয়েও বেশি? যাদের কোনও নিরাপত্তা পাওয়ার কথা নয়, তাদেরও কি সুরক্ষা? রাজ্য জুড়ে সবার ক্ষেত্রেই পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রাজ্য জুড়ে সবার ক্ষেত্রেই নতুন করে স্ক্যানিং।
এদিকে, পদত্যাগপত্র দিতে রাজি হননি মমতা বন্দ্য়ােপাধ্যা। তিনি বলেন, “আমরা তো হারিনি। হারলে পদত্যাগ করতাম।” রাজ্যে তৃণমূল ধরাসায়ী হওয়ার পরও, এমন আজব দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। লজ্জাজনক হারের পরেও কেন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী? উঠছে প্রশ্ন।