এই আইনকে একটি ঐতিহাসিক সংস্কার বলে উল্লেখ করে হিমন্ত বলেন, “(অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করা) আমাদের সরকারের আগামী ৫ বছরের কার্যক্রমের সেরা সূচনা হিসাবে চিহ্নিত করা যায়৷’’
বিধানসভায় আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারীর মর্যাদাই সর্বাগ্রে থাকা উচিত। তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম বাড়বে, আবার একদিন কমবেও। কিন্তু যদি কোনও মেয়ে তার মর্যাদা হারায়, তা আর কখনও ফিরে পাওয়া যায় না।” বিলটি বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের মধ্যেই পাশ হয় অসম বিধানসভায়। কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ বিধায়করা প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্য এবং এর তথাকথিত ‘একপাক্ষিকতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অসম সরকার সোমবার বিধানসভায় বিলটি পেশ করেছিল। এতে ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়গুলির জন্য একটি অভিন্ন আইন প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে এবং লিভ-ইন সম্পর্কের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়াও, বিলটিতে শাস্তিমূলক বিধান রাখা হয়েছে। পলিগ্যামি বা বহুবিবাহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং লিভ-ইন সম্পর্ক নিবন্ধন না করলে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত জেলের বিধান রয়েছে।
তবে অসমে বসবাসকারী তফসিলি উপজাতিদের (Scheduled Tribes) এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, তাদের প্রথাগত উপজাতীয় রীতি ও আইন সংরক্ষিত থাকা উচিত।
বিধানসভায় আলোচনার সময় উপস্থিত বিরোধী দলের বিধায়কেরা আইনটিকে বিজেপির “রাজনৈতিক এজেন্ডা” আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেন এবং এটি পাশের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার দাবি জানান।
কংগ্রেস বিধায়ক তথা দলীয় নেতা ওয়াজেদ আলী চৌধুরী যুক্তি দেন যে, ইউসিসি-তে অন্তর্ভুক্ত বেশিরভাগ বিষয়ই বাল্যবিবাহ, বিবাহ নিবন্ধন, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ এবং বহুবিবাহ সংক্রান্ত সমস্যা, যা বিদ্যমান আইনগুলোর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সমাধান করা হয়েছে।
এদিকে, শাসকদল এনডিএ-র বিধায়কেরা প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে কথা বলেন এবং এটিকে নারী অধিকার ও সমাজ সংস্কার কেন্দ্রিক একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসাবে বর্ণনা করেন। পিটিআই জানিয়েছে, বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা বলেছেন যে এই আইনটি “কোনও ধর্ম বা ধর্মীয় রীতির বিরুদ্ধে নয়”।
পূর্ববর্তী স্ত্রীদের সম্মতি ছাড়া “একই শ্রেণীর” পুরুষদের একাধিকবার বিয়ে করার অনুমতি দেওয়ার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাজারিকা। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিলটি লিভ-ইন সম্পর্ককে নিষিদ্ধ করে না, কেবল এর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।