এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, আমেরিকা কি ইরানের উপর হামলা চালাবে? প্রথমে ট্রাম্প উত্তর দেন, “আমি কি আপনাকে সেটা বলে দেব?” এরপর তিনি বলেন, “উত্তর হল, না। আজ কোনও হামলা হবে না।” আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খোলা রাখলেন ট্রাম্প:
ট্রাম্পের এই বক্তব্য শুধুমাত্র রবিবারের জন্য প্রযোজ্য। এর অর্থ এই নয় যে, পরবর্তী কোনও সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
রবিবারের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, তেহরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো হবে, নাকি সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে, তা নিয়ে তিনি এখনও বিবেচনা করছেন। তাঁর কথায়, বিকল্প হল, “কাজটা শেষ করা” অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছনো।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাঁর আগের ইঙ্গিত থেকে কিছুটা আলাদা। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রবিবারই ইরানের উপর হামলা চালাতে পারে আমেরিকা।
আমেরিকা-ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত:
ইরান জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা থমকে থাকলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমেরিকার সঙ্গে এখনও কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
তেহরান আমেরিকার এমন দাবিগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে, যেগুলিকে তারা “সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ” করার শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে।
আলোচনার বিষয়ে অবহিত একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রবিবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও তেহরানে উপস্থিত ছিলেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত, আমেরিকা-ইরান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু:
আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন তাদের নৌ অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে তারা প্রস্তুত। যদিও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংবাদমাধ্যম এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কোনও নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
পরস্পরবিরোধী এই বক্তব্যগুলি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ঘিরে অনিশ্চয়তার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই মুহূর্তে, ২৫ অক্টোবর ইরানের উপর মার্কিন হামলার সম্ভাবনা খারিজ করেছেন ট্রাম্প। তবে তাঁর মন্তব্যে ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপ অথবা কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা খোলা রয়েছে।