বৃহস্পতিবার প্রকাশিত TIME-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয় ট্রাম্পকে। সম্প্রতি খবর প্রকাশ্যে এসেছিল, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য MBS অনুরোধ করলেও ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি সৌদি আরবের জন্য অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে রক্ষা করি। আমি যদি প্রেসিডেন্ট না থাকতাম, তাহলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইজরায়েলও থাকত না। পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত।”
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখনও যথেষ্ট ভাল বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। MBS সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি।” তাঁদের সম্পর্ককে ‘খুব ভাল’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে মার্কিন সুরক্ষা না থাকলে একাধিক দেশই অস্তিত্ব হারাত। তাঁর কথায়, “আমাদের সম্পর্ক খুব ভাল। কিন্তু মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইজরায়েলও থাকত না। আরও বেশ কয়েকটি দেশও থাকত না।”
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব বলে খবর। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অভিযানের পরিকল্পনা একাধিক স্তরে করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ সুরক্ষিত করতে উপকূলীয় এলাকায় অভিযান থেকে শুরু করে একাধিক ফ্রন্টে বড় ধরনের হামলা।
আঞ্চলিক ও পশ্চিমী আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর কাছ থেকে হুথিদের পিছনে ঠেলে দেওয়াই সৌদি অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। লোহিত সাগর ও গালফ অফ এডেনের মধ্যে সংযোগকারী এই প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্ভাব্য অভিযানে সৌদি বিমানবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে অভিযান কবে শুরু হবে এবং তার পরিধি কতটা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, সৌদি অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে আমেরিকা সাহায্য করছে। তবে সরাসরি যুদ্ধে মার্কিন সেনা অংশ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে না।
এর আগে MBS হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করলেও ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে খবর।
ইয়েমেনের উপকূলবর্তী এলাকায় হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং বাব-এল-মান্দেবের আশপাশের কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরই জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরব ও হুথিরা পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি মোটের উপর কার্যকর ছিল। তবে চলতি বছরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ফের বাড়ায় ইয়েমেন সংঘাত নতুন করে আন্তর্জাতিক নজরে এসেছে।