Last Updated:
Nadia News: ছোট বেলা থেকেই ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল পিউ বসাকের। অভাবের সংসার হলেও মা-বাবা কোনও দিনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি মেয়ের স্বপ্নের দরজায়।
মৈনাক দেবনাথ, নবদ্বীপ, নদিয়া: চরম দারিদ্র্য আর নিত্যদিনের অভাব-অনটন—কোনোটাই বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি নবদ্বীপের ১০ বছরের খুদে ফুটবলার পিউ বসাকের সামনে। প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কলকাতার ঐতিহাসিক ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের বেবি লিগে খেলার সুযোগ করে নিয়েছে নবদ্বীপের ইশানী বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এই ছাত্রী। অভাবের সংসারে লালিত-পালিত হয়েও ফুটবলের মাঠে তাঁর অসাধারণ স্ট্রাইকিং দক্ষতা আজ ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
পিউয়ের পরিবারের সদস্য বলতে বাবা, মা, ছোট ভাই এবং দিদা। বাবা পিন্টু বসাক পেশায় একজন সাধারণ আইসক্রিম বিক্রেতা। প্রতিদিনের সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হলেও, মেয়ের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নের পথে কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াননি পিন্টু বা তাঁর স্ত্রী পম্পা বসাক। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ফুটবলার হওয়া, সেই মেয়ের এই সাফল্যে গোটা পরিবার গর্বিত।
নবদ্বীপ পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকানগর ভরপুর পাড়ার এই মেয়েটির ফুটবলের হাতেখড়ি নবদ্বীপ বিবেকানন্দ ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। কোচ প্রদীপ কুমার সাহার অধীনে গত দুই বছর ধরে কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল সে। নদিয়া জেলায় মেয়েদের জন্য এটাই একমাত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর প্রতিভার বিকাশ, যা পরবর্তীতে ওপেন উইমেন্স লিগে এক ম্যাচেই ৫টি গোল করার অবিশ্বাস্য নজির তৈরি করে।
পিউয়ের এই বিধ্বংসী ফর্ম চোখ এড়ায়নি খোদ কলকাতার বড় ক্লাবগুলির প্রতিনিধিদের। শিয়ালদহ রেলওয়ে রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডের অ্যাথলেটিক মাঠে ইস্টবেঙ্গলের কোচ শৈলেন সাহা যখন পিউয়ের খেলা দেখেন, তখন আর সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়নি। লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপিয়ে বেবি লিগে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলার জন্য বেছে নেওয়া হয় নবদ্বীপের এই প্রতিভাকে।
ইস্টবেঙ্গলে সুযোগ পাওয়ার আগে সল্টলেক, কেষ্টপুর এবং বেহালা কালচারাল ক্লাবের হয়ে খেলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে এসেছে পিউ। বেহালার হয়ে এক ম্যাচে গোল করার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। স্কুলের অ্যাথলেটিক্সে নামডাক থাকলেও, ফুটবলের সবুজ ঘাসই যেন তাঁর আসল ঠিকানা। লাল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা পিউ।
আর্থিক অনটনের মাঝে বড় হলেও পরিবার ও কোচের পূর্ণ সমর্থনই পিউয়ের মূল শক্তি। একজন সাধারণ আইসক্রিম বিক্রেতার মেয়ের এই রাজকীয় উত্তরণ এখন কেবল একটি পরিবারের সাফল্য নয়, বরং সমগ্র নবদ্বীপের জন্য আনন্দ ও নতুন আশার আলো। প্রতিকূলতাকে জয় করে লাল-হলুদ ব্রিগেডে স্থান করে নেওয়া এই খুদে স্ট্রাইকার ভবিষ্যতে ভারতীয় ফুটবলে বড় তারকা হয়ে উঠবে, এমনটাই স্বপ্ন দেখছেন সবাই।
Kolkata,West Bengal