ঘোষণা অনুযায়ী, প্রয়াত ইরানি নেতার স্মরণসভাটি আগামী ২৩ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে এই অনুষ্ঠানকে ‘শহিদ মুজাহিদ ইমাম’-এর স্মরণসভা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে মোজতবা খামেনেই জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দিয়েছেন, আর এই ঘোষণাটি সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সামনে এসেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য আলি খামেনেই এবং তাঁর নিহত পরিজনদের দেহ সৎকার করা হয়নি। সম্প্রতি সে দেশে তাঁর শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই শেষকৃত্য উপলক্ষে তেহরান-সহ দেশের নানা শহরে শয়ে শয়ে মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অধিকাংশ জমায়েতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরোধী পোস্টার দেখা গিয়েছে। প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই মোজতবার বার্তা প্রকাশ্যে এল।
বাবার শেষকৃত্যে অনুপস্থিত ছিলেন মোজতবা:
গত সপ্তাহে তাঁর বাবার শেষকৃত্যে মোজতবা খামেনেই প্রকাশ্যে উপস্থিত হননি। বরং, প্রয়াত নেতার মৃত্যুর পর আয়োজিত সবচেয়ে বড় শোকানুষ্ঠানগুলির একটিতে তাঁর তিন ভাই নামাজে নেতৃত্ব দেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা যায়, তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মোস্তাফা, মেইসাম এবং মাসুদ খামেনেই কফিনগুলির পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সেখানে হাজার হাজার শোকাহত মানুষ সমবেত হয়েছিলেন।
তেহরানের বিস্তীর্ণ ধর্মীয় কমপ্লেক্সটির ভিতরে জানাজার নামাজের জন্য আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই, তাঁর মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ এবং তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিন একসঙ্গে রাখা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে নতুন সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ে, কারণ তাঁর বাবার নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার মোজতবার:
আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে সমাহিত করার কয়েকদিন পর, তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বিবৃতি দেন মোজতবা খামেনেই। সেখানে তিনি তাঁর বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা নিহত হন।
এএফপি-র প্রতিবেদনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “প্রতিশোধ আমাদের জাতির ইচ্ছা এবং তা অবশ্যম্ভাবীভাবে কার্যকর করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত অস্তিত্ব কিংবা অন্য কোনও কর্মকর্তার অস্তিত্বের উপর নির্ভর করে না। আমরা থাকি বা না থাকি, এটি ঘটবেই।”
এই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের হত্যাচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর।
আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে মার্কিন-ইরান উত্তেজনা:
বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণ করেন, তবে যুদ্ধ শুরুর আগে থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। নিজের বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে।
সর্বশেষ এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ১৭ জুনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে এবং কড়া বক্তব্যের মাত্রা বাড়িয়েছে, যার ফলে সংঘাত ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আগামী মঙ্গলবারের স্মরণসভার ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ, এটি শুধু ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানই নয়, বরং দেশের সর্বোচ্চ পদ গ্রহণের পর মোজতবা খামেনেইয়ের প্রথম জনসমক্ষে উপস্থিতির ঘটনাও হতে পারে। তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করেনি যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা।