কলকাতা: ক্যামেরার সামনে থেকে তিনি সরে গিয়েছিলেন দীর্ঘদিন। প্রচুর সিনেমায় যে অভিনয় করেছেন, এমনও নয়। কিন্তু বাঙালি তাঁকে মনে রেখেছিল চিরকাল। মিঠু মুখোপাধ্যায় (Mithu Mukherjee)। কখনও ‘মৌচাক’, কখনও ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ বা কখনও ‘আশ্রিতা’ মানুষের মনে আজও চির উজ্জ্বল তাঁর কাজ। কিন্তু পুজোর আগেই, টলিউডে দুঃসংবাদ। ৭১ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন, মিঠু মুখোপাধ্যায় (Mithu Mukherjee)। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিউড। প্রত্যেকেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে। ভাগ করে নিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে টুকরো টুকরো স্মৃতি।
মিঠু মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে আবেগপ্রবণ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত লিখেছেন, ‘ আমার খুব প্রিয় একজন অভিনেত্রী চলে গেলেন। অনেক অভিনেত্রীই আসেন, একটা দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে, একসময় চলে যান। মিঠু মুখোপাধ্যায় তেমনই একজন অভিনেত্রী। যিনি হয়তো খুব বেশি কাজ করেননি, কিন্তু যতটুকু করেছিলেন তা আমাদের কাছে চিরকাল একটা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁর ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘আশ্রিতা’, ‘মৌচাক’-এর মতো ছবি, আরও অনেক ছবি সত্যিই দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিল। তাঁর মধ্যে এক অদ্ভুত সম্মোহনী আকর্ষণ ছিল, যা খুব বেশি অভিনেত্রীর মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না বলেই আমার মনে হয়। গালের একটা অদ্ভুত সুন্দর তিল আর দুটো টোল – এটাই বোধহয় মিঠু মুখোপাধ্যায়কে অনন্য করে তুলেছিল। তার সঙ্গে ছিল তাঁর হেয়ারস্টাইল, তাঁর স্টাইল, তাঁর সেক্স অ্যাপিল, আর ছবির প্রতি তাঁর সম্পূর্ণ কমিটমেন্ট। একটা সময়, অনেক বছর পর যখন তিনি ‘আশ্রিতা’ ছবির হাত ধরে ফিরে এসেছিলেন, তখন দেখেছিলাম কীভাবে বিজলী সিনেমায় হইহই করে মাসের পর মাস, প্রায় বছর খানেক ধরে হল ভর্তি ছিল – ছবিটা কখনও নামেইনি। সেই ছবির পোস্টারও ছিল অসাধারণ – তখন আমরা ছোট, মনে আছে তাঁর পা তুলে কিছু একটা ফোটার দৃশ্য দিয়ে পোস্টারটা তৈরি হয়েছিল। মনে হয়, তখনকার দিনে সৃজনশীলতাটাই অন্যরকম ছিল।’
ঋতুপর্ণা আরও লিখেছেন, ‘মিঠু মুখোপাধ্যায়ের কথা দু’দিন আগেই একজন খুব ভালো পরিচালক, আমাদের বৌদ্ধায়নের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম – তাঁকে কোনও ছবিতে আনা যায় কিনা, তাঁর সঙ্গে কোনও কাজের সুযোগ তৈরি করা যায় কিনা। আর ঠিক তার দু’দিন পরেই তিনি চলে গেলেন। কী আশ্চর্য! তাঁকে মনে করছিলাম বলেই হয়তো – এটাকেই বোধহয় বলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে আমাদের সংযোগ। আশা করি, তিনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকবেন। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে আরও বেশি পেলে আমরা হয়তো আরও সমৃদ্ধ হতাম। তাঁর কাছ থেকে আরও কিছু কাজ পেলে, তাঁর সান্নিধ্য আর একটু বেশি পেলে ভালো লাগত। তবে তিনি চিরকাল তাঁর সেই গ্ল্যামার গার্ল ইমেজেই থেকে যাবেন – এক অসম্ভব ভালো অভিনেত্রী, গ্ল্যামার আর এক ম্যাজিক্যাল স্ক্রিন প্রেজেন্স নিয়ে। এভাবেই আমরা মিঠু মুখোপাধ্যায়কে মনে রাখব। ওম শান্তি।’