কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়া প্রসঙ্গে এবার কটাক্ষের সুর শোনা গেল সৌমিত্র খাঁ-র মুখে। একটি চেয়ার তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানালেন বিজেপি সাংসদ। তিনি জানিয়েছেন, ‘৭ তারিখের মধ্যে যদি সরকার না হত, তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসন করতে হত। তার জন্য়ই ৪ তারিখে ফল ঘোষণা করতে হয়েছে। এটা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি। উনি যদি না ছাড়েন চেয়ার, তাহলে কেউ আনতেই যাবে না ওঁনার থেকে। আমি দিদিকে ও ভাইপোকে বলব যে চেয়ার ছাড়তে যদি কষ্ট হয়, আমরা একটা চেয়ার পাঠিয়ে দেব। ‘চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ না লেখা একটি চেয়ার ওঁনাকে পাঠিয়ে দেব। নীচে একটা ‘EX’ লেখা থাকবে। আজীবন যেন চেয়ারটা থাকে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।’
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে হেরে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাঁকে হারিয়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী তৃণমূল কংগ্রেসেরও ভরাডুবি হয়েছে গোটা রাজ্যে। প্রথমবার এই রাজ্যে সরকারে এসেছে বিজেপি। কিন্তু এরপরও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
এদিকে, হরিশ চ্য়াটার্জি স্ট্রিট, হরিশ মুখার্জি রোড ও কালীঘাট রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে তুলে নেওয়া হল অতিরিক্ত নিরাপত্তা। অতিরিক্ত নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনে থেকেও। পুলিশ জানিয়েছে, ২ জনেই জেড প্লাস নিরাপত্তা পান। সেটা বহাল রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত কিছু নিরাপত্তা ছিল, সেটা তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃণমূল জমানা শেষ! রাজপাট শেষ! সাম্রাজ্য় এখন অতীত! অবশেষে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাড়ির সামনে থেকে। নিরাপত্তার বাড়াবাড়িতে এতদিন যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ট হয়ে ছিল, সেখানে এখন আবার সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত। মুখে স্বস্তির হাসি।ভোটের ফল ঘোষণার রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনের সিজার ব্য়ারিকেড খুলে দেওয়া হয়েছিল! বুধবার সকাল ঠিক সাড়ে ছটার সময় সবকটি জায়গা থেকেই একসঙ্গে অতিরিক্ত নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয় পুলিশের তরফে।