নয়াদিল্লি: হিজাব না পরে গান গাওয়ায় শাস্তি। গ্রেফতার ইরানের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী পরস্তু আরমাদি। গোড়াতেই গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। তব এবার তাঁকে ৭৪ বার চাবুক মারার নিদান দিল ইরানের আদালত। অনলাইন কনসার্টে হিজাব পরেননি পরাস্তু। তাঁর সহযোগীদের উপরও নামল শাস্তির খাঁড়া। (Parastoo Ahmadi)
২৯ বছর বয়সি পরস্তু সম্প্রতি একটি অনলাইন কনসার্টে অংশ নেন। ২০২৪ সালে একটি ইউটিব চ্যানেল থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় কনসার্টটি। একটি কালো ড্রেস পরে গান গেয়েছিলেন পরস্তু। চুল ছিল খোলা। সেই নিয়েই পরস্তু এবং তাঁর টিমে থাকা অন্য আটজন শিল্পীর উপর শাস্তির খাঁড়া নেমে এসেছে। (Parastoo Ahmadi News)
The Guardian জানিয়েছে, ইরানোর কোম প্রদেশের অপরাধ আদালত সাজা শুনিয়েছে। পরস্তু এবং তাঁর টিমকে চাবুক পেটা করতে বলা হয়েছে ৭৪ বার করে। সেই সঙ্গে দু’বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, যার আওতায় আগামী দু’বছর দেশ ছাড়তে পারবেন না তাঁরা। শিল্পকলা সংক্রান্ত কাজে অংশও নিতে পারবেন না।
– 74 lashes in public
– 2 yr travel ban
– 2 yr ban on artistic workIranian singer Parastoo Ahmadi & 8 other members performing with her have been punished for singing without Hijab.
This is what Islam is all about — not peace, not architecture or music!! pic.twitter.com/jkkpY6tmVq
— BALA (@erbmjha) June 19, 2026
আরও পড়ুন: গোপনে মহাকাশে আধিপত্য? পৃথিবীর ‘দ্বিতীয় উপগ্রহে’ পা রাখছে চিন, কী সেই বিশেষ উদ্দেশ্য
সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই অনলাইন কনসার্টের যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দৃষ্টিকটু কিছু চোখে পড়েনি। কিন্তু অভিযোগ দায়ের হয় যে, শালীনতাভঙ্গের। পরস্তু এবং তাঁর টিমের শিল্পকর্মকে রুচিহীন হলেও দাগিয়ে দেওয়া হয়। ওই কনসার্টটিকে ‘অশ্লীল’ এবং ‘অনৈতিক’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তার পরই শাস্তির খাঁড়া নামে। যদিও ইরানের বিচারব্যবস্থার তরফে এখনও সরকারি ভাবে শাস্তির নিদান লিখিত আকারে প্রকাশ করেনি।
শিল্পীদের বিরুদ্ধে এমন সব বিষয়বস্তু তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে জনরুচি ও শালীনতা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা ‘অশ্লীল ও অনৈতিক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই রায় প্রকাশ করেনি।
আরও পড়ুন: ‘পিরিয়ড ট্যাক্স’ তুলে নিচ্ছে পাকিস্তান সরকার, গর্ভনিরোধক সামগ্রীকেও ছাড়, মামলা চলছিল এতদিন
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং আইনজীবীদের মতে, প্রকাশ্যে শাসককে অমান্য করা শিল্পীদের দমিয়ে রাখতে, ভিন্নমতকে পিষে দেওয়াই লক্ষ্য ইরান সরকারের। এই মামলাও তাদের সেই বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন। আদালতের সাজার তীব্র সমালোচনা করেছেন তাঁরা। আমেরিকা নিবাসী বাহার ঘনদেহারি, যিনি Centre for Human Rights চালান, তিনি জানিয়েছেন, ইরানে যে কিছুউই বদলায়নি, আবারও প্রমাণিত হল। তাঁর কথায়, “শুধুমাত্র গান গাওয়ার জন্য ৭৪ বার চাবুকপেটা। হিজাব পরেনি বলেই নাকি! ইরানে মানবাধিকার কোন জায়গায় রয়েছে, এতেই তা স্পষ্ট। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যতই প্রোপাগান্ডা চালানো হোক না কেন, কিছুই বদলায়নি।”
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ওই অনলাইন কনসার্টি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশভক্তির গান ‘Az Khoone Javanane Vatan’ (দেশের তরুণদের রক্ত) গেয়েছিলেন পরস্তু। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ২৭ বছর। পুরুষ মিউজিশিয়ানদেরও দেখা যায় ভিডিও-য়। লক্ষ লক্ষ মানুষ ওই কনসার্ট দেখেন। সেই সময় গ্রেফতার করা হয় পরস্তু এবং তাঁর টিমের লোকজনকে। পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও, দায়ের হয় মামলা। ২০২৩ সালের জুন মাসে ‘The Air of Freedom’ গানটি গাওয়ার পরও রোষানলে পড়েন পরস্তু। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। তলব করা হয় আদালতে। তাঁর জিনিসপত্রও কেড়ে নেওয়া হয়, যাতে গান গাইতে না পারেন।
তাণ্ডব চালানো হয়েছিল থানায়, এবার পাকড়াও জাহাঙ্গির-জায়া