নয়াদিল্লি: তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল রাশিয়া। তীব্র কম্পন অনুভূত হল রাশিয়ার কামচাটকায়। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭। রাশিয়ায় ভূমিকম্পের পর কম্পন অনুভূত হয় জাপানেও। তবে তীব্রতা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। (Japan 9.9 Earthquake Alert)
শুক্রবার প্রথমে ভূমিকম্প হয় রাশিয়ার কামচাটকায়। সেখান থেকে ১২৩ কিলোমিটার দূরে, দক্ষিণ-পশ্চিমের ভিলুচিনস্ক কম্পনের উৎসস্থল বলে জানা গিয়েছে। ভূগর্ভের প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরতা থেকে ছড়িয়ে পড়ে কম্পন। এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর সামনে আসেনি। জারি হয়নি সুনামি সতর্কতাও। (Kamchatka Earthquake)
তবে কামচাটকা কেঁপে ওঠার পরই ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি হয় জাপানে। জাপানের আবহাওয়া বিভাগ JMA-র তরফে ৯.৯ তীব্রতায় ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি করা হয়। পরে যদিও ওই অবস্থান থেকে সরে আসে তারা। ভুলবশত অত বেশি তীব্রতার ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি হয় বলে জানায়। পরবর্তীতে ৬.৯ তীব্রতার ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি করে টোকিও।
তবে ভুল যত ক্ষণে শোধরানো হয়, তত ক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। জাপানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, টানা আট মিনিট ধরে সাইরেন বাজতে থাকে। মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা ঢোকে বিপদসঙ্কেকত-সহ। এর পর জানা যায়, ভুলবশত তীব্রতা ৯.৯ দেখানো হয়েছে। তবে আবহকর্মীদের ভুলে ওই সতর্কতা জারি হয়, না যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কামচাটকায় ভূমিকম্পের পর হোক্কাইদোতে যে কম্পন অনুভূত হয়, তার তীব্রতা ছিল মাত্র ১।
৯.৯ তীব্রতায় ভূমিকম্প হলে জাপানে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসতে পারত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্প হয়েছিল চিলির ভলডিভিয়াতেই। ১৯৬০ সালে সেখানে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৯.৫।
তবে পর পর যেভাবে ভূমিকম্প হয়ে চলেছে, তাতে অশনিসঙ্কেত দেখছেন বিজ্ঞানীদের একাংশ। পাশিয়ার কামচাটকা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ের মধ্যে পড়ে। অগ্ন্যুৎপাতের জেরে সেখানে মাটির নীচের পাতগুলি প্রায়শই এদিক ওদিক হয়। আর তাতেই ঘন ঘন কেঁপে ওঠে মাটি। এর আগে, গত বছর জুলাই মাসেও ভূমিকম্প হয় কামচাটকায়। সেবার কম্পনের তীব্রতা ছিল ৮। সেবার সুনামিতে ভেসে যায় উপকূলীয় গ্রাম।