Last Updated:
পুণের ২৫ বছর বয়সি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের রহস্যমৃত্যুর জট যত খুলছে, ততই সামনে আসছে তাঁর বাগদত্তা সিয়া গয়ালের গতিবিধির। পুলিশি তদন্তে এবার জানা গেল, খুনের ঠিক একদিন আগেই পুণের একটি নামী ক্যাফেতে বসে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতেই এই খুনের চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল সিয়া ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী ৷
পুণে: কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। খুনের অভিযোগে গ্রেফতার সিয়া গয়াল এবং চেতন চৌধুরীর সম্পর্কের পাশাপাশি পুণের ব্যবসায়ী কেতনকে হত্যার অভিযোগে যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে দাবি, তার নানা দিক উঠে আসছে তদন্তে। গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে কেতন আগরওয়ালকে খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগে সিয়া ও চেতন বর্তমানে ২৯ জুন পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। প্রথম দিকে সিয়া পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ছবি তোলার সময় কেতন পা পিছলে খাদে পড়ে যান।
সিয়া ও চেতনের পরিচয় কীভাবে?
পুণে গ্রামীণ পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, গত বছর তাঁদের এক কমন ফ্রেন্ডের আয়োজিত দীপাবলি পার্টিতে প্রথম দেখা হয় সিয়া ও চেতনের। তদন্তকারীদের ধারণা, সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে বাগদান হওয়ার পরও সিয়া নিয়মিত চেতনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা করতেন।
কোথায় তৈরি হয়েছিল খুনের ছক?
তদন্তকারীদের সন্দেহ, সিয়া কেতনকে বিয়ে করতে চাইছিলেন না। আর সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত এই হত্যার ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনার একদিন আগে, অর্থাৎ ১৭ জুন, সিয়া ও চেতন একটি ক্যাফেতে দেখা করেন এবং সেখানে খুনের পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। তদন্তকারীদের বক্তব্য, লোহাগড় দুর্গের এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা নিয়ে তারা আলোচনা করেছিলেন, যেখান থেকে কেতনকে খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কেতনের মৃত্যুর আগে ১৪ জুন সিয়া নাকি কেতনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। তবে তিনি একটি গাছ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান। পরে সিয়া তাঁকে বলেন, তিনি একটি সাপ দেখেছিলেন এবং তাঁকে বাঁচানোর জন্যই ধাক্কা দিয়েছিলেন।
সিয়া ও চেতনের একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ:
ঘটনার কয়েকদিন পর, দুই অভিযুক্তই নিজেদের হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, চেতন জানিয়েছেন যে তিনি সিয়াকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সিয়াই কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার উপর জোর দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সিয়া তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল চেতনের। তাঁর অভিযোগ, ১৪ জুন কেতনকে হত্যার আগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চেতন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন এবং এরপরই এই পরিকল্পনা করেন।
Kolkata,West Bengal
