Last Updated:
আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপে এফবিআইয়ের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার ২৪। লরেন্স বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যার অভিযোগ আনা হলেও মার্কিন চার্জশিটে ভারত সরকারের কোনও ভূমিকার উল্লেখ করা হয়নি।
নয়াদিল্লি: প্রায় তিন বছর আগে তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেছিলেন যে, খালিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত সরকারের এজেন্টদের সম্ভাব্য যোগ থাকতে পারে। তবে এবার কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP) জানিয়েছে, তদন্তে মন কোনও প্রমাণ মেলেনি যাতে ভারতীয় সরকারি আধিকারিকদের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বা অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। ২০২৩ সালে নিজ্জর হত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন ভারতে বন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গোল্ডি ব্রার, এবার চার্জশিট প্রকাশ করে জানাল আমেরিকা৷ এই চার্জশিটে ভারত ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি।
আমেরিকা ও কানাডার যৌথ অভিযানের পর এক সাংবাদিক বৈঠকে RCMP জানায়, তদন্তে ভারতীয় সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তারা ‘অপারেশন হার্ড বল’ (Operation Hard Ball)-এর ঘোষণা করে। এফবিআইয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানে লরেন্স বিষ্ণোই, রবিন্দর ধান্ডা এবং জগ্গু ভগবানপুরিয়া চক্রকে টার্গেট করা হয়েছে। কানাডা পুলিশের দাবি, এই অপরাধচক্রগুলি চাঁদাবাজি, মাদক পাচার, অপহরণ, খুন-সহ একাধিক সংগঠিত অপরাধে জড়িত ছিল এবং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।
২০২৩ সালে কানাডার পার্লামেন্টে জাস্টিন ট্রুডো দাবি করেন, নিজ্জর হত্যার সঙ্গে ভারত সরকারের এজেন্টদের যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই মন্তব্য ঘিরে ভারত ও কানাডার মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।
ভারত শুরু থেকেই এই অভিযোগকে “অযৌক্তিক” বলে উড়িয়ে দেয় এবং বারবার কানাডার কাছে অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ চেয়েছিল।
এর জেরে দুই দেশই একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। কূটনৈতিক কর্মী সংখ্যা কমানো হয়, কিছু সময়ের জন্য কানাডার নাগরিকদের ভিসা পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়, বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ হয়ে যায় এবং পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সম্পর্ক প্রায় দুই বছর ধরে তলানিতে পৌঁছে যায়। পরে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে কানাডা সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভারতে জেলে বসেই চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে লরেন্স বিষ্ণোই গোটা হত্যার পরিকল্পনা পরিচালনা করেছিলেন। উত্তর আমেরিকায় সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন গোল্ডি ব্রার।
চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, বিষ্ণোই নিজ্জরের ছবি ও ঠিকানা সরবরাহ করেছিলেন। এরপর ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরের একটি গুরুদ্বারের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয় হরদীপ সিং নিজ্জরকে।
Kolkata,West Bengal
Jul 08, 2026 11:18 AM IST
