Last Updated:
Baruipur Follow Up: বারুইপুর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার ৫ জন। হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের খাটের নীচে লুকিয়ে থাকা ৩ অভিযুক্তকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হল বারুইপুর থানায়।
বারুইপুর: বারুইপুরে নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত-সহ ৫ জন। সোমবার রাতে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের খাটের নীচে লুকিয়ে থাকা ৩ অভিযুক্তকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুর থানায়। ঘটনায় আগেই গ্রেফতার হয়েছিল দু’জন। বাকি তিনজনকেও রাতেই গ্রেফতার করল পুলিশ। হাসপাতালের বাইরে ছিল উত্তেজিত জনতার ভিড়।
রীতিমতো কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পুলিশ তিনজনকে হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের খাটের নীচ থেকে বের করে নিয়ে যায় সোমবার গভীর রাতে। ধৃতদের নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুর থানায়। উপস্থিত ছিলেন বারুইপুর প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্কর প্রসাদ। বারুইপুরের ঘটনায় পাঁচজন যুক্ত ছিল বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। এই পাঁচজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরকাণ্ডে সোমবার দুপুরেই গ্রেফতার হয় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সরদার। বারুইপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। ঘটনায় রবিবার ৫ জুলাই একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর রাতভর তল্লাশি চালিয়ে সোমবার ৬ জুলাই আরও একজনের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার হয় অভিযুক্ত। এছাড়াও বারুইপুরের এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে আরও ৩ জনকে। বারুইপুর থানার সামনে মোতায়েন রয়েছে প্রচুর পুলিশ।
বারুইপুরে আজ, মঙ্গলবার সকালেই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে বিজেপির প্রতিনিধিদল পৌঁছেছে। বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উপস্থিত থাকবেন তাঁরা। কথা বলবেন পরিবারের সঙ্গে। এদিকে ইতিমধ্যেই এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নাবালিকাকে খুনের ঘটনায় ৬ সদস্যের SIT গঠন করে শুরু করা হয়েছে তদন্ত। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে SIT। এই ঘটনার পর সোমবার ৬ জুলাই বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর, সোনারপুর থানা এলাকায় BNS-এর ১৬৩ নম্বর ধারা জারি হয়েছে। এলাকায় আগে কাজ করেছেন এমন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রচুর পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মোতায়েন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। চলছে নজরদারি।
বারুইপুরে ১২ বছর বয়সি নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের বিষয়টিতে জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করেছে। কমিশন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের DGP কাছে ৭ দিনের মধ্যে একটি ‘গৃহীত পদক্ষেপের রিপোর্ট’ (ATR) তলব করেছে; এতে এফআইআর, গ্রেফতার, তদন্ত, পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ, গণপিটুনি বা জনরোষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে—সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
অর্পণ মণ্ডল
Kolkata,West Bengal
