সরকারের এই উদ্যোগের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ড. ভি. কামাকোটি বলেন, এমন এক সময়ে ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সুপারিশ করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, যখন জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অভূতপূর্ব হারে বেড়েছে।
এই বহুমুখী বিশেষজ্ঞদের টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন্দন নিলেকানি। এনটিএ-র পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে সার্বিক সংস্কারের সুপারিশ করার উদ্দেশ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। CNN-News18-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে কামাকোটি কমিটির মূল লক্ষ্যগুলি তুলে ধরে বলেন, তাঁদের কাজের প্রধান উদ্দেশ্য হবে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।
এদিকে সোমবারই লোকসভায় পেশ হবে ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন অ্যামেন্ডমেন্ট ২০২৬’ বিল। পেশ করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের আরও কড়া শাস্তি দেওয়া যাবে। নিশ্চিত করা যাবে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে এই সংক্রান্ত ঘটনার দ্রুত বিচারও। সূত্র বলছে, বিল আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দোষীদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সঙ্গে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে।
কামাকোটি জানান, টাস্ক ফোর্স দুটি প্রধান ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়েছে—প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা। তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন পরীক্ষার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, আসন্ন পরীক্ষাগুলিকে নিরাপদ রাখতে কমিটি তাৎক্ষণিক করণীয় পদক্ষেপেরও সুপারিশ করবে। পাশাপাশি, ভারতের জাতীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে তা প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত, নিরাপদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার দায়িত্বও এই কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং ভবিষ্যৎ-উপযোগী পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
কামাকোটির মতে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ধরন গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গিয়েছে, কারণ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে।
“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থারও পরিবর্তন হয়েছে। আমি যখন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম, তখনকার পরিস্থিতির তুলনায় এখন অনেক বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী এই পরীক্ষাগুলিতে অংশ নিচ্ছে”, বলেন কামাকোটি।
NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস আস্থার ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে:
কামাকোটি বলেন, NEET-UG 2026-এর কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতাগুলিকে সামনে এনে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “এ বছরের NEET-UG পরীক্ষার প্রতি মানুষের যে আস্থা ছিল, তার ভিত্তিই নষ্ট হয়ে গেছে। যারা প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এনটিএ সেই মূল দলের ওপর ভরসা করেছিল, কিন্তু সেই বিশ্বাস ভেঙে পড়েছে। এখন আমাদের সামনে তাৎক্ষণিক কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলা করে পরিস্থিতির উপযোগী সংস্কার আনতে হবে।”
তিনি আরও জানান, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি-সংক্রান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। অল ইন্ডিয়া সার্ভে অন হায়ার এডুকেশন (AISHE)-এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরীক্ষায় আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেবেন।
কামাকোটি আরও বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) অন্যতম।
কেন বেছে নেওয়া হয়েছে প্রতিটি সদস্যকে?
টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের নির্বাচন প্রসঙ্গে কামাকোটি বলেন, প্রত্যেক সদস্যকে তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রের বিশেষ দক্ষতার ভিত্তিতেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের ক্ষেত্রে নন্দন নিলেকানির মতো উপযুক্ত ব্যক্তি আর নেই।
প্রাক্তন ইসরো (ISRO) চেয়ারম্যান এস. সোমনাথকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কামাকোটি বলেন, “রকেট উৎক্ষেপণ করা আর একটি পরীক্ষা পরিচালনা করা একই ধরনের কাজ।” তাঁর মতে, এই দায়িত্ব পালনের জন্য এস. সোমনাথের চেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি আর হতে পারেন না।