নয়াদিল্লি: দু’দিনের মাথায় দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আর তার আগে বিজেপি বিরোধী I.N.D.I.A শিবিরে ফাটল। বিশেষ করে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করল অন্য শরিক দলগুলি। সেই তালিকায় রয়েছে CPM, JMM. বৈঠকে যোগ দিতেই নারাজ অনেকে। শরিক দলগুলির মধ্যে এহেন মতপার্থক্যে I.N.D.I.A শিবিরের স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। (I.N.D.I.A Bloc Meeting)
৮ জুন শরিক দলগুলিকে নিয়ে দিল্লিতে I.N.D.I.A শিবিরের বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। কিন্তু জোটে কংগ্রেসের নেতৃত্ব, তাদের কাজের পদ্ধ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে CPM এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM). কংগ্রেসের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা। (I.N.D.I.A Bloc Cracks Wide Open)
বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে যেভাবে একনাগাড়ে আক্রমণ করে গিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব, সেই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে CPM. বিশেষ করে রাহুল গাঁধীর মন্তব্য নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাদের। সেই নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গেকে কড়া চিঠি লিখেছেন CPM-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। তিনি লেখেন, ‘কেরল বিধানসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেস নেতৃত্ব সুপরিকল্পিত প্রচার চালিয়েছিলেন যে CPM এবং BJP নেতৃত্বের মধ্যে গোপন সমঝোতা রয়েছে। পিনারাই বিজয়ন এবং নরেন্দ্র মোদির কোনও গোপন সমঝোতা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রশ্ন তোলা হয়, নইলে কেন ED জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করছে না’!
আরও পড়ুন: CJI সূর্যকান্তের বক্তৃতা ঘিরে উত্তেজনা লন্ডনে, উঠল ‘ভিন্নমত’, ‘ককরোচ’ মন্তব্যও, তীব্র নিন্দা ভারতের
বেবির দাবি, ২০২৩ সালের জুন মাসে I.N.D.I.A শিবির গড়ে ওঠার পর থেকে বিজেপি-র বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে CPM. অথচ এখন CPM-এর বিরুদ্ধেই BJP-র সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। বিজেপি-র বিরুদ্ধে জোটের ভিত্তিতেই আঘাত হানা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘RSS-BJP-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেরলে আমাদের শত শত ক্যাডার শহিদ হয়েছেন। কেরলে গত ১০ বছর LDF-এর শাসন থাকাকালীন একটিও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি। এতে প্রমাণ হয়, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা’। বেবির প্রশ্ন, নির্বাচনী প্রচারে রাহুল যেভাবে বিজয়নের বিরুদ্ধে ED-কে আহ্বান জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তা কি কাম্য? বিরোধীদের বিরুদ্ধে মোদি সরকারের বেআইনি এবং শাস্তিমূলক আচরণকে কি তিনি আহ্বান জানাচ্ছেন না?
৮ জুনের বৈঠকের আগে এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি বলে চিঠিতে জানিয়েছেন বেবি। তাঁৎ বক্তব্য, ‘তবে বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংসদের ভিতরে যেমন I.N.D.I.A শিবিরকে সবরকম ভাবে সহযোগিতা করবে CPM, তেমনই মোদি সরকারের স্বৈরাচারী, সাাম্প্রদায়িক এবং জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে অন্য বিরোধী দলগুলিরও পাশে থাকবে CPM. এত রকমের আক্রমণ, অপপ্রচারের পরও CPM-এর তরফে কোনও খামতি থাকবে না’।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে জনস্রোত, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চায় ককরোচ জনতা পার্টি, আন্দোলনে শামিল সোনম ওয়াংচুকও
ঝাড়খণ্ড থেকে ‘একতরফা ভাবে’ কংগ্রেস রাজ্যসভার দু’টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বলে ক্ষুণ্ণ JMM. ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন নিজের প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। কংগ্রেস এবং JMM জোটের কাছে দু’টি আসনে জয়ী হওয়ার মতো সংখ্যা রয়েছে। কংগ্রেস যেমন ‘একতরফা ভাবে’ প্রার্থী ঘোষণা করেছে, সেই পথে হেঁটেছে JMM-ও। শনিবার প্রাক্তন মন্ত্রী বৈদ্যনাথ রামকে একটি আসনে প্রার্থী করেছে তারা। দ্বিতীয় আসনে দলের সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র সুপ্রিয় ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। রাজ্যসভা নির্বাচনে ঝাড়খণ্ড থেকে জিততে হেল প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৭ জনের প্রথম পছন্দ হতে হবে। বিজেপি-ও নিজের প্রার্থী দেবে। তবে চার জনের সমর্থন কম রয়েছে তাদের কাছে।
এম কে স্ট্যালিনের DMK আগেই জানিয়েছে, ৮ জুনের বৈঠকে থাকবে না তারা। সঙ্গ ছেড়ে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস ‘থলপতি’ বিজয়ের সঙ্গে হাত মেলানোয় ক্ষুব্ধ তারা। কংগ্রেসের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিতে এই মুহূর্তে রাজি নয় তারা।
অন্য দিকে, বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে এখন টালমাটাল পরিস্থিতি। রাজ্যে দলে ভাঙন ধরেছে। সংসদেও একাধিক সাংসদ বিজেপি-র দিকে পা বাড়াচ্ছেন বলে খবর। এমন পরিস্থিতিতে শনিবারই দিল্লি উড়ে গিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নিয়ে তাদের কটাক্ষ করেছে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখনও ওরা পরাজয় মানতে পারছে না। আর একটা ডুবন্ত জাহাজ আঁকড়ে ভেসে থাকতে চাইছে।” আবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন রাহুল। পরে যদিও জোড়াফুল শিবিরের প্রতি কিছুটা নরম হন তিনি। ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে I.N.D.I.A শিবিরের ভবিষ্য়ৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে এখন।