নয়াদিল্লি : ফের আতঙ্কের উড়ান। ইন্ডিগোর বিমানের কার্গো হোল্ডে ধোঁয়া দেখতে পেলেন ক্রুর সদস্যরা। যাকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক ছড়াল। জরুরি ভিত্তিতে আবতরণ করানো হয় বিমানটি। মুম্বই-দুবাই রুটের ছিল বিমানটি। কিন্তু, ধোঁয়া-আতঙ্কে ১৯৪ জন যাত্রীকে নিয়ে তা গুজরাতের রাজকোটে জরুরি অবতরণ করে। এরপর যাত্রীদের ইন্ডিগোর 6E 1452 থেকে নিরাপদে নামানো হয়।
এদিন রওনা দেওয়ার পর আচমকা বিমানের কার্গো হোল্ডে ধোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়। এরপর ইন্ডিগোর বিমানটির চালকরা রাজকোট বিমানবন্দরে যোগাযোগ করেন। এরপর সম্পূর্ণ এমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয় । রাজকোট বিমানবন্দরের অধিকর্তা দিগন্ত বোরহা বলেন, “দুবাই থেকে মুম্বইগামী ইন্ডিগোর একটি বিমান কার্গো হোল্ড এলাকায় ধোঁয়া শনাক্ত হওয়ার পর রাজকোট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং সকল যাত্রী নিরাপদ আছেন।
ইন্ডিগো ৮০টিরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে। এটি এয়ারবাস এ৩২০ (Airbus A320) ও এ৩২১ (A321) সিরিজের বিমান এবং এটিআর ৭২-৬০০ (ATR 72-600) টার্বোপ্রপ বিমান ব্যবহার করে থাকে।
বিভ্রাট আগেও…
গত মে মাসে তীব্র গরমে যাত্রীদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয়েছিল ইন্ডিগোর একটি বিমানে। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে রাতের বিমানে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলে। যার জেরে চরম নাকাল হন যাত্রীরা। ভদোদরা থেকে দিল্লীগামী ইন্ডিগোর বিমানে এই সমস্যা দেখা গিয়েছিল।
রাত ৮ টা ৪০ মিনিট নাগাদ ভদোদরা থেকে উড়ানের কথা ছিল ইন্ডিগোর 6E 657 বিমানের। বিমানে তখন প্রায় ১৬০ জন যাত্রী। দাঁড়িয়ে থাকা বিমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট (GPU) বিমানটির উড়ানের আগে কাজ করা থামিয়ে দেয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা যায়। যান্ত্রিক এই সমস্যা ঠিক করতে ১২ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে ইঞ্জিনিয়ারদের। বিমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য আরও ১৫ মিনিট প্রয়োজন পড়ে। ততক্ষণ পর্যন্ত চরম নাকাল হতে হয় যাত্রীদের। এক আধিকারিক বলেন, “এই আধ ঘণ্টায়, কেবিন সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঢেকে যায়। এসিও কাজ না করায় যাত্রীরা ঘামতে থাকেন।” এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট পর্বে যাত্রীরা বিমানের মধ্যেই ছিলেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে জানা যায়, বিমানটি ছাড়ার কথা ছিল রাত ৮ টা ৪০ মিনিট নাগাদ। কিন্তু, শেষমেশ রাত ১০টা নাগাদ ছাড়ে। যার জেরে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট দেরিতে চলে বিমানটি।