Last Updated:
UNGA-তে নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে জোরালো সমর্থন জানাল রাশিয়া। রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বললেন, UNSC-তে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। ভারতের দাবিতে সমর্থন জানিয়েছে পর্তুগাল ও মরিশাসও।
শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের (UNGA) অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাল রাশিয়া। রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণে নতুন করে পশ্চিমী দেশগুলিকে স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। বরং এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
UNGA-তে বক্তব্য রাখার সময় লাভরভ বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে পশ্চিমী দেশগুলিকে, বিশেষ করে জার্মানি ও জাপানকে নতুন কোনও আসন দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। আমরা এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে। স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ব্রাজিল ও ভারতের প্রার্থিতাকে আমরা সমর্থন করি।”
নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করে আসছে। বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোয় সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি।
নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে পর্তুগাল ও মরিশাসও। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করে তুলতে সংস্কারের দাবি ক্রমশ জোরাল হচ্ছে।
পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো আরও প্রতিনিধিত্বশীল নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে সওয়াল করে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মরিশাসের বিদেশমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুলও ভারতের দাবির প্রতি তাঁর দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গঠনমূলক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে—চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকা। এই পাঁচ দেশেরই ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদে রয়েছে ১০টি অস্থায়ী সদস্যপদ, যেগুলিতে সদস্য দেশগুলিকে দুই বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন। এরপর রাষ্ট্রসংঘের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দেশের অনুমোদন বা র্যাটিফিকেশন দরকার হয়। এর মধ্যে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকা—প্রত্যেকের অনুমোদনও বাধ্যতামূলক।
