Last Updated:
Dilip Ghosh Brother: চার ভাইয়ের মধ্যে দিলীপবাবু মেজ। বড় দাদা পেশায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে দিলীপবাবুর বেড়ে ওঠা এবং পড়াশোনা মূলত কেটেছে মামাবাড়িতে, দাদু-দিদিমার আদরে। মামাবাড়ির কাছের স্কুলেই তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হলেও মাঝপথে পড়াশোনার মোড় ঘোরে এবং তিনি ডিপ্লোমা নিয়ে পড়তে চলে যান।
ঝাড়গ্রাম: তিনি এখন রাজ্যের মন্ত্রী, প্রভাবশালী রাজনীতিক। কিন্তু মেদিনীপুরের ঘোষ বাড়ির অন্দরমহলে তিনি আজও সেই ঘরের মেজ ছেলে। রাজনীতির ময়দানে কড়া মেজাজে দেখা মিললেও ব্যক্তিগত জীবনে দিলীপ ঘোষ আজও মাটির মানুষ। তাঁর ছোট ভাই হীরক কুমার ঘোষের চোখে বড় দাদার এই উত্তরণ যেন এক দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতিফলন, যেখানে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও শিকড়কে ভোলেননি তিনি।
চার ভাইয়ের মধ্যে দিলীপবাবু মেজ। বড় দাদা পেশায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তবে দিলীপবাবুর বেড়ে ওঠা এবং পড়াশোনা মূলত কেটেছে মামাবাড়িতে, দাদু-দিদিমার আদরে। মামাবাড়ির কাছের স্কুলেই তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হলেও মাঝপথে পড়াশোনার মোড় ঘোরে এবং তিনি ডিপ্লোমা নিয়ে পড়তে চলে যান।
হীরকবাবুর স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে এক অনুশাসিত শৈশবের কথা। বাবা ও জেঠুর কড়া শাসনে বড় হওয়া দিলীপবাবু মোটেই ডানপিটে ছিলেন না। বরং বাবার সামনে কথা বলার সুযোগ ছিল সীমিত। তবে মায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক চিরকালই অত্যন্ত নিবিড় এবং মধুর। পারিবারিক অনুশাসন এবং আরএসএস-এর আদর্শে বড় হওয়া এই মানুষটির রাজনৈতিক জীবনের গ্রাফও বেশ বৈচিত্র্যময়।
২০১৬ সালে খড়গপুর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে তাঁর সংসদীয় রাজনীতির সূচনা। এরপর ২০১৯ সালে মেদিনীপুর থেকে জয়ী হয়ে পাড়ি দেন সংসদে। যদিও ২০২৪-এর দুর্গাপুর নির্বাচনে পরাজয়ের স্বাদ পেতে হয়েছিল তাঁকে, কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র তিনি নন। ২০২৬ সালে ফের বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়ে বর্তমানে তিনি রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। ভাই হীরকবাবুর মতে, “রাজনৈতিক পদমর্যাদা বদলালেও মানুষ দিলীপ ঘোষ একচুলও বদলাননি। তাঁর কাছে বাড়ির মেজদা আর মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মধ্যে কোনও তফাত নেই। শূন্য থেকে সংগঠনকে রাজ্যের শীর্ষে পৌঁছে দেওয়ার যে কারিগর, তিনি আজও সাধারণ মানুষের সঙ্গেই মিশে থাকেন। বড় নেতা বা মন্ত্রী হওয়ার বিন্দুমাত্র অহংকার তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।”
আজও বাড়িতে এলে তিনি সেই পুরনো অভ্যেস মতোই খাটিয়া কিংবা তক্তপোশে ঘুমান। এমনকি খোলা আকাশের নীচে গাছের তলায় খাটিয়া পেতে শুয়ে থাকতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ছোটবেলার সেই মিশুকে স্বভাব আর হৈ-হুল্লোড় প্রিয় মানুষটি আজও তাঁর কাজের মধ্যে দিয়েই মানসিক শান্তি খুঁজে পান। হিরকবাবুর বিশ্বাস, “সংগঠন গড়ার মতোই মন্ত্রী হিসেবেও তিনি একইভাবে মানুষের আস্থার মর্যাদা রাখবেন।”
রঞ্জন চন্দ