নাগপুর : অযোধ্যায় রাম মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদান আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই আবহে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন RSS প্রধান মোহন ভাগবত। কিছু মানুষ ভগবান রামের প্রতি বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছিলেন, এই সংক্রান্ত প্রশ্নের নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া দিলেন তিনি। নাগপুরে সাংবাদিকরা যখন ভাগবতের কাছে জানতে চান যে, ভগবান রামের প্রতি ভক্তদের বিশ্বাস দুর্বল করার চেষ্টা চলছে—এমন দাবির বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী, তখন আরএসএস প্রধান কেবল “রাম-রাম” বলেই সেখান থেকে চলে যান।
আরএসএস-এর সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বলেছিলেন যে, এই ঘটনা রামভক্ত ও বৃহত্তর সমাজের বিশ্বাসকে ‘গভীরভাবে আহত’ করেছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্যের ঠিক পরের দিনই ভাগবতের এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য এল।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে হোসাবলে বলেন, এই ঘটনায় আরএসএস (RSS) “অত্যন্ত ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ”। তিনি বিশেষ তদন্তকারী দলকে (SIT) দোষীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, “হিন্দু-বিরোধী ও দেশবিরোধী শক্তিগুলি” হিন্দু ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে এই ঘটনাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি ভক্তদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
হোসাবলের কথায়, এই ঘটনা ভক্তদের আবেগে গভীরভাবে আঘাত করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মন্দির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটিগুলো দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর উচিত বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা। তিনি আরও বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এই ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে হবে।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ভক্তদের দেওয়া দান বা প্রণামী গণনার কাজে নিয়োজিত ছয়জন আউটসোর্সড কর্মী এবং ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। ওই ছয়জন আউটসোর্সড কর্মীর মধ্যে অবিনাশ শুক্লাও ছিলেন।
শুক্রবার উত্তর প্রদেশ পুলিশ এই মামলায় তাদের তদন্তের গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লাকে ২৪ ঘণ্টার পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে—যার উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার, ঘটনার পুনর্নির্মাণ এবং নতুন পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা। একই সময়ে, রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে তাদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
Fake Birth Certificate: বেআইনিভাবে ভুরি ভুরি বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ!