কলকাতা: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মদিনে তাঁর জীবনকে রুপোলি পর্দায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবর্ষে ঘোষণা হল নতুন সিনেমার, ‘শ্যামা’। পরিচালনায়, সুচন্দ্রা ভানিয়া ও চন্দ্রোদয় পাল। প্রসঙ্গত, এই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি এই ছবিটি নিয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণা করছেন তিনি। ছবিটিকে তথ্যনির্ভর করে তৈরি করার জন্য যাবতীয় গবেষণা করা হচ্ছে। শ্যামাপ্রসাদের জীবন এবং আদর্শ নিয়েই তৈরি হবে এই সিনেমা, জানিয়েছেন পরিচালকদ্বয়।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে সিনেমা, কী বলছেন পরিচালকদ্বয়?
এই সিনেমা নিয়ে সুচন্দ্রা ভানিয়া ও চন্দ্রোদয় পাল বলছেন, ‘ইতিহাস শুধু কিছু তারিখ বা ঘটনাপঞ্জি নয়; ইতিহাস তাঁদের গল্প, যাঁরা আরামের চেয়ে আদর্শকে বেছে নিয়েছিলেন। “শ্যামা” সিনেমাটা তৈরির উদ্দেশ্য হল, এমন এক জীবনযাত্রাকে সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরা, যা দর্শককে ভারতের ইতিহাস নিয়ে নতুনভাবে ভাবাবে। এই চলচ্চিত্রের শিরোনামই আমাদের ভাবনার মূল ভিত্তি। “শ্যামা” যেমন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম নাম, তেমনি এটি মা কালীরও নাম— যিনি কলকাতার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে পূজিতা। এই দ্বৈত অর্থই চলচ্চিত্রটির আবেগের কেন্দ্রবিন্দু—একদিকে শ্যামার আশীর্বাদে রক্ষিত এক শহর, অন্যদিকে সেই শহরেরই এক সন্তান, যিনি একই নাম বহন করে ইতিহাসের এক সংকটময় সময়ে নিজের পথ নির্মাণ করেছিলেন। বৃহৎ ক্যানভাসের দৃশ্যায়ন এবং গভীর মানবিক গল্পের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চাই ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র বিভীষিকা, উদ্বাস্তু মানুষের অসহনীয় যন্ত্রণা এবং সেই সময়কার আদর্শগত সংঘাত, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। ইতিহাস দ্বারা অনুপ্রাণিত হলেও, “শ্যামা” মূলত অতীতকে সিনেমার ভাষায় নতুনভাবে উপলব্ধি করার এক প্রয়াস—যা দর্শকদের ভাবতে, আলোচনা করতে এবং সহমর্মিতার সঙ্গে ইতিহাসকে অনুভব করতে আহ্বান জানায়। “শ্যামা” আমাদের পক্ষ থেকে দৃঢ়তা, আদর্শ এবং এক অমর সভ্যতার চেতনার প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।’
এই সিনেমায় ড. মুখোপাধ্যায়কে এমন এক নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যাঁর প্রচেষ্টা দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পাশাপাশি, দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে হিন্দু বাঙালিদের জন্য নিরাপদ মাতৃভূমির দাবিতে তাঁর অবস্থানকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। উপমহাদেশের ইতিহাসের এক অন্ধকারতম সময়ে বহু মানুষের কাছে তিনি হিন্দু বাঙালিদের রক্ষাকর্তা হিসেবে স্মরণীয়।