নিউ ইয়র্ক: বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়েছিলেন বাড়ি থেকে। ছাতা হাতে নিয়ে সবে দু’পা এগিয়েছেন। সেই সময়ই বজ্রপাত হল এক ব্যক্তির উপর। সরাসরি তার পায়ের পাতার উপর বাজ পড়ল। বাড়ির দরজায় বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ল গোটা ঘটনা। (Man Struck by Lightning)
আমেরিকার নিউ ইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের ঘটনা। বৃহস্পতিবার বৃষ্টির মধ্যে দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলেন টমাস ফাহমি। বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার কথা ছিল। সেই মতো ছাতা নিয়ে বেরোন। গাড়ি দাঁড়িয়েছিল ১৫-২৫ ফুট দূরে। কিন্তু দু’পা হাঁটতেই বাজ পড়ে। (Lightning Viral Video)
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, টমাসের ছাতার ঠিক সামেন বাজ পড়ে। বিদ্যুতের ঝলকানি, সেই সঙ্গে তীব্র শব্দ শোনা যায়। একেবারে লুটিয়ে পড়েন টমাস। ওই দৃশ্য দেখে চিৎকার করে ওঠেন টমাসের পরিবারের লোকজন। সকলে যখন আতঙ্কিত, হঠাৎ উঠে দাঁড়ান টমাস। খোঁড়াতে খোঁড়াতে এগিয়ে আসেন বাড়ির দিকে। গেট খুলে ঢুকে আসেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ওহ্ মাই গড’।
Staten Island man struck by lightning while walking to a dentist appointment.
Thomas Fahmy says he is grateful to be alive and went to church on Sunday to thank God for giving him another chance.
“Once the lightning bolt struck me, the initial sensations that I had throughout… pic.twitter.com/Ns11TGqB23
— Collin Rugg (@CollinRugg) September 1, 2026
আরও পড়ুন: সই, আঙুলের ছাপ থাকলেই বৈধ নয় উইল, যথেষ্ট নয় রেজিস্ট্রেশনও, জানিয়ে দিল আদালত
টমাসের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হতবাক সকলে। তবে বাজ পড়ার পরও সংজ্ঞা হারাননি টমাস। তিনি বলেন, “দুই পা ঝিনঝিন করছিল। অসাড় হয়ে গিয়েছিল দুই পা। তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করছিলাম।” গোটা ঘটনায় জীবনকে তিনি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শিখেছেন বলে জানিয়েছেন টমাস। তাঁর বক্তব্য, “জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। হাসতে থাকুন। তাজা হাওয়ায় শ্বাস নিন। জীবন যেন কাবু না করতে পারে।”
টমাস আমেরিকার রিপ্রেজেন্টেটিভ নিকোল মালিওটাকিসের অফিসে কর্মরত। এই ঘটনায় তারা বিবৃতি দিয়ে বলে, “টমাসের প্রাণরক্ষা হয়েছে। এতেই কৃতজ্ঞ আমরা। উনি ভাল আছেন। স্টেটেন আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল এবং সেখানকার কর্মীদের ধন্যবাদ, যাঁরা ওর চিকিৎসা করেছেন।”
আরও পড়ুন: অযোধ্যার রামমন্দিরের নতুন CEO প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিক, ‘অপারেশন সিঁদুরে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল
টমাসের এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, ‘হেল্প মি’, ‘হেল্প মি’ শব্দ কানে আসে তাঁর। দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন তিনি। দেখতে পান, মাটিতে পড়ে রয়েছেন টমাস। সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের ঘটনা এমনিতেই বেড়ে গিয়েছে আমেরিকায়। সম্প্রতি সেন্ট পিটার্সবার্গে এক ব্যক্তি বজ্রপাতে মারা যান। হেঁটে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে মৃত্য়ু হয় এক তরুণী এবং তাঁর শিশুসন্তানের। ইলিনয়ে মা ও ছেলের মৃত্য়ু হয়েছে বজ্রপাতে। আমেরিকার সেন্টার্স ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, প্রতিবছর দেশে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ বাজ পড়ে। তবে কোনও মানুষের উপর বাজ পড়ার হার প্রতি লক্ষে ১-এরও কম। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে বাজ পড়ার পরও বেঁচে যান অনেকে।