রাষ্ট্রসংঘে বক্তব্য রাখার সময় আরাঘচি বলেন, কাতারের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তাঁর কথায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্তগুলি পূরণ করা হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আরাঘচি বলেন, “ইরান কাতারের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে একটি সুনির্দিষ্ট সাত দিনের পরিকল্পনা পৌঁছে দিয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত আমেরিকার হাতে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তেহরান কোনও ধরনের চাপ বা হুমকি মেনে নেবে না এবং ইরান তার সার্বভৌম অধিকার বলে যা মনে করে, তা ছেড়ে দেবে না। তিনি বলেন, “ইরান কোনও ধরনের জবরদস্তি, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেয় না এবং চাপের মুখে ইরান তার সার্বভৌম অধিকার ছেড়ে দেবে না।”
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আরাঘচি আমেরিকার দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তবে ওই আলোচনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও অগ্রগতি হয়নি।
তেহরান ফের আলোচনায় বসার বিষয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত:
আরাঘচির এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইরানের নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের সঙ্গে ফের কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, জুন মাসে আমেরিকার সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক (MoU) হয়েছিল, তেহরান তাতে ফিরে যেতে চায়। ওই সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে চিনের সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ইরানও বেজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত।
জুনের ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল বৃহত্তর আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা। কিন্তু পরবর্তীতে ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত চলতে থাকায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে যায়।
জুনের ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল বৃহত্তর আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা। কিন্তু পরবর্তীতে ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত চলতে থাকায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে যায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পেজেশকিয়ান দৃঢ় অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে বলেছিলেন, ইরান ওয়াশিংটনের সামনে “হাঁটু গেড়ে মাথা নত করবে না”। তবে একদিন পরেই তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না এবং সংঘাতের অবসান শেষ পর্যন্ত আমেরিকার হাতেই রয়েছে।